kalerkantho


নেপাল সরকার থেকে মাধেশি দলগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নেপাল সরকার থেকে মাধেশি দলগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার

নেপাল সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজনৈতিক দলগুলো। সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি—এমন অভিযোগে গত বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এদিকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় এটা মোটামুটি স্পষ্ট যে সরকার নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে। কারণ নেপালের রাজনীতিতে দক্ষিণাঞ্চলের মাধেশি জাতিগোষ্ঠীর দলগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ পরিস্থিতিতে দলগুলোকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

গত আগস্টে সরকারে সমর্থন জানায় দক্ষিণাঞ্চলের মাধেশি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট। তাতে শর্ত ছিল যে রাজনীতি মাধেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংবিধান সংশোধন করা হবে। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ না করায় গত বুধবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় তারা।

ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক মাধেশি ফ্রন্টের (ইউডিএমএফ) নেতা লক্ষণ লাল কর্ন বলেন, ‘শর্ত পূরণ করতে আমরা সরকারকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি। ’ সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি পার্লামেন্টের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাধেশি জোটের এই সাতদল সমর্থন প্রত্যাহার করারও পর অবশ্য ক্ষমতায় থাকার মতো সমর্থন সরকারের আছে। কারণ মাধেশিরা সরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই গত সপ্তাহে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দলে টানে সরকার। তবে ক্ষমতায় থাকলেও নতুন ধরনের সংকটে পড়বে সরকার।

আগামী ১৪ মে মাসে দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘ দুই দশক পর স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। মাধেশি দলগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ওই নির্বাচনে বাধা দেবে। ভারত সীমান্তে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চল রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সেখানকার জনসংখ্যা নেপালের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক।

এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি সেনাদের সঙ্গে স্থানীয়দের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। চলতি মাসের শুরুতেই প্রধান বিরোধী দলের মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে মাধেশি বিক্ষোভকারীরা। তাতে পুলিশ গুলি চালালে পাঁচ সংখ্যালঘুর মৃত্যু হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সংবিধান পাস হয়। বিতর্কিত ওই সংবিধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রায় এক মাস ধরে ভারত-নেপাল সীমান্ত বন্ধ করে দেয় মাধেশিরা। ওই সময় নেপালজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যাপক সংকট তৈরি হয়। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য