kalerkantho


উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে চীন

‘নিজের দরজায় আমরা ঝামেলা চাই না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বছরের একমাত্র সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবারের এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি এবং বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কোন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলেন।

চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কেকিয়াং কোরিয়া সংকট সম্পর্কে বলেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপের দ্বন্দ্ব সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের শুধু ক্ষতিই করবে। আমরা আশা করছি, (দ্বন্দ্ব নিরসনে) সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে পারব। ’ নিকটতম দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সংকট সম্পর্কে চীনের মনোভাব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘নিজের বাড়ির দরজায় কেউ যে ঝামেলা চায় না, সেটা তো সাধারণ জ্ঞান দিয়েই বোঝা যায়। ’

চীনের প্রধানমন্ত্রী কেকিয়াং এমন একসময় কোরীয় সংকট নিয়ে মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এশিয়া সফর শুরু করেছেন। গতকাল টিলারসন জাপানের রাজধানী টোকিওর উদ্দেশে রওনা হন। প্রসঙ্গত, কোরিয়া সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও খানিকটা দায় চাপিয়ে থাকেন।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর মার্চেও সেটা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এশীয় মিত্র জাপানের জলসীমায় চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া।

দেশটি নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালেও জাপানের জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়াটাকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র এবার অবশ্য শুধু যৌথ মহড়ায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দক্ষিণ কোরিয়ায় অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (থাড) প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপও সম্পন্ন করেছে।

কেকিয়াংয়ের গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অন্যতম বিষয়গুলোর একটি ছিল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ’ চীনে মার্কিন বিনিয়োগ যেকোনো বাণিজ্যিক লড়াইকে ছাপিয়ে যেতে পারে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যত পার্থক্যই থাকুক না কেন, এখনো একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। ’ প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এশিয়া সফর কর্মসূচির মধ্যে চীনও রয়েছে। জাপানের পর দক্ষিণ কোরিয়া হয়ে টিলারসনের চীনে পৌঁছানোর কথা।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে কেকিয়াং বলেন, ‘চীন চায় না, ঠাণ্ডাযুদ্ধকালীন মানসিকতার প্রভাবে পড়ে কেউ কোনো পক্ষ নিতে বাধ্য হোক। ’ বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু নিয়ে দুই দেশের আচরণে ‘সত্যিকার অগ্রগতি’ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং বিষয়টা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৃহত্তর আলোচনায় বসার ওপর জোর দেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য