kalerkantho


গণভোটে প্রবাসীদের মধ্যে প্রচার

তুরস্ককে সতর্ক করল ইইউ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রবাসী তুর্কিদের মধ্যে গণভোটে প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে তিক্ততা আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল সোমবার এ সংকটে হস্তক্ষেপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংগঠনটি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে তুরস্কের কয়েকজন মন্ত্রীকে নেদারল্যান্ডসে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে আঙ্কারার বিরোধ তৈরি হয়। একই অবস্থান নেয় জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশ।

বলে রাখা ভালো, আগামী ১৬ এপ্রিল তুরস্কে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের ক্ষমতা আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের বহু ভোটার ইউরোপের নানা দেশে বাস করে। এসব ভোটারের মধ্যে প্রচার চালাতেই সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর শুরু করেছেন এরদোয়ানের মন্ত্রীরা। তবে বিদেশে নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টিকে মোটেই সুদৃষ্টিতে দেখছে না ওই সব দেশের সরকার। এরই মধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড এ ধরনের প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এ নিষেধাজ্ঞা নিয়েই সম্প্রতি তীব্র সমালোচনায় মুখর হন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তিনি ডাচদের ‘নাৎসিদের অবশিষ্ট’ আর উগ্রবাদী বলে মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের মন্তব্য গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার করেছেন তিনি। ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে এরদোয়ানকে এ ধরনের বিবৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট। তিনি বলেছেন, ‘এমন মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ দেশ নাৎসিদের বোমা হামলার শিকার হয়েছে। ’ তুরস্ক একই পথে চলতে থাকলে নেদারল্যান্ডস পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা ভাববে বলে জানান তিনি।

ওদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘তুরস্কের কাণ্ডজ্ঞান ফিরে আসা উচিত। ’ অন্যদিকে ফ্রান্সের এক মন্ত্রীও বলেছেন, ‘তুরস্ক তাদের সঙ্গে আরো সহযোগিতার হাত বাড়ানোর ভিত্তিমূলই নষ্ট করেছে। ’

গত প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংকট চলছে। এই সময় নেদারল্যান্ড সফরে যান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাকে বহনকারী বিমান নেদারল্যান্ডসে নামনে পারেনি। নেদারল্যান্ডসে তার প্রবাসী তুর্কীদের নিয়ে সভা করার কথা ছিল। একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন তুর্কী পরিবার বিষয়ক মন্ত্রীও। তিনি নেদাল্যান্ডসে ঢুকতে পারলেও তাকে তুর্কী দূতাবাসের সামনে আটকে দেওয়া হয়। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য