kalerkantho


মেয়ে ইভানকাই মানছেন না ‘ট্রাম্প-নীতি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মেয়ে ইভানকাই মানছেন না ‘ট্রাম্প-নীতি’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘আমরা সহজ দুটি নিয়ম মেনে চলব—আমরা মার্কিন পণ্য কিনব এবং মার্কিনিদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। ’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাঁর মেয়ে ইভানকাই এ নীতির ব্যতিক্রম।

সম্প্রতি ইভানকার মালিকানাধীন কম্পানি সাড়ে ৫৩ টন পণ্য চীনে তৈরি করে দেশে এনেছে। মার্কিন শুল্ক বিভাগের এক তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাহাজে করে আসা এসব চালানে মোট আট ধরনের পণ্য আছে। এর মধ্যে নারীদের জন্য তৈরি পলেস্টারের জামা আছে দুই টনের বেশি। গরুর চামড়ার তৈরি ওয়ালেট আছে এক হাজার ৬০০টি। জুতা আছে ২৩ টনের মতো। ইভানকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করে—এমন তিনটি মার্কিন কম্পানি চীনে এসব তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। কম্পানিগুলো হলো জি-থ্রি, মন্ডানি হ্যান্ডব্যাগস ও মার্ক ফিসার ফুটওয়্যার। এ বিষয়ে কম্পানিগুলো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মার্কিন শুল্ক বিভাগের নথি অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব পণ্য মোট ৮২টি চালানে ছাড়া হয়। অর্থাৎ প্রতি কর্মদিবসে একটি করে চালান ছাড়া হয়েছে।

 ইভানকার ব্যবসা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় গত মাসে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘নর্ডস্ট্রম’ তাঁর (ইভানকা) কম্পানির পণ্য বিক্রি না করার ঘোষণা দিলে আলোচনা শুরু হয়। নর্ডস্ট্রমের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এমনকি ইভানকার কম্পানির পণ্য কেনার জন্য সবাইকে আহ্বানও জানান হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক কেলিয়ান কনওয়ে।

কেবল ইভানকা নয়, খোদ ট্রাম্পের ব্যবসায়িক নীতিও তাঁর প্রতিশ্রুতির সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির নথিপত্র বলছে, গত এক দশকে চীন ও হংকং থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্র্যান্ডের নামে বিভিন্ন পণ্যের এক হাজার ২০০ চালান যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে। অথচ নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চীনের ব্যবসায়িক নীতি এবং সেখান থেকে পণ্য আমদানির বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।

ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্পের ‘আমদানিবিরোধী’ মনোভাব আরো প্রকট হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, মাত্রাতিরিক্ত পণ্য আমদানি করলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য