kalerkantho


সিরীয় শিশুদের জন্য ভয়ংকর ছিল ২০১৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সিরীয় শিশুদের জন্য ভয়ংকর ছিল ২০১৬

দীর্ঘ ছয় বছরের গৃহযুদ্ধে একটু একটু করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সিরিয়া। সেখানকার শিশুদের জন্য গত বছরটা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ—জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ও সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে শিশুদের ব্যবহার—সব মিলিয়েই তারা গত বছর সবচেয়ে ভয়ংকর সময় পার করেছে।  

ইউনিসেফ জানায়, সিরিয়ায় ২০১৬ সালে কমপক্ষে ৬৫২ শিশু নিহত হয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ২০ শতাংশ বেশি। ইউনিসেফ এটাও বলেছে, গত বছরের শিশুমৃত্যুর যে চিত্র তারা তুলে ধরেছে, সেটা কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে তাদের আশঙ্কা। ঘরবাড়িতে তো বটেই, স্কুলগুলোতে বোমাবর্ষণসহ অন্যান্য হামলায় শিশুদের প্রাণহানি ঘটেছে। গত বছর নিহত সাড়ে ছয় শতাধিক শিশুর মধ্যে ২৫৫ শিশু নিহত হয়েছে স্কুলের ভেতর অথবা আশপাশে।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) গতকাল সোমবার জানিয়েছে, এ ছয় বছরে সিরিয়ায় তারা তিন লাখ ২১ হাজার ৩৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ করেছে। নিহতদের মধ্যে ৯৬ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার নারী ও ১৭ হাজার চার শর বেশি শিশু।

সরকারি বাহিনীতে নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ৯০০ জনের বেশি। আধাসামরিক বাহিনীতে এ সংখ্যা ৪৫ হাজার। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত আট হাজার বিদেশি যোদ্ধাও এ ছয় বছরে প্রাণ হারিয়েছে বলে জানায় এসওএইচআর। এ ছাড়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার একসময়ের সংশ্লিষ্ট ফাতেহ আল-শাম ফ্রন্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর ৫৫ হাজার সদস্যও রয়েছে এসওএইচআরের তালিকায়। সংস্থাটির প্রধান রামি আবদেল রহমান জানান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে মৃত্যুর হার কমেছে, তবে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।

ইউনিসেফের ধারণা, গত বছর সাড়ে আট শর বেশি শিশুকে দলে টেনেছে জঙ্গিরা। ২০১৫ সালের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ। জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পর তাদের একেবারে সম্মুখসমরে কাজে লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া আত্মঘাতী বোমা হামলা, বন্দিশিবিরের পাহারাসহ বিভিন্ন ভয়ানক কাজে এমনকি জল্লাদের ভূমিকায় নামতেও তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অংশের পরিচালক গিয়ার্ট ক্যাপেলেয়ার সিরীয় শিশুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘দুর্ভোগের গভীরতা নজিরবিহীন। ’ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই-তৃতীয়াংশ সিরীয় শিশু হয় তাদের কোনো প্রিয়জন হারিয়েছে, নয়তো বাড়িঘরে বোমা হামলা বা গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে অথবা আহত হয়েছে। গৃহযুদ্ধ শিশুদের ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে, সেটাকে ‘বিষাক্ত’ আখ্যা দিয়েছে ইউনিসেফ। সিরিয়ার শিশুরা এখন কেবল মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলেও জানায় সংস্থাটি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য