kalerkantho


উত্তর প্রদেশে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে নামল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের উত্তর প্রদেশে গতবারের তুলনায় এবার মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল। রাজ্যটিতে মোট ৪০৩ আসনের মধ্যে মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ২৪ জন। সমাজবাদী পার্টি (সপা), বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) এবং কংগ্রেস থেকে এই বিধায়করা নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৬৯। ১৯৬৭ সালের পরে এই প্রথম এত কম মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হলেন।

উত্তর প্রদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও বিধানসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব সেই তুলনায় অনেকটাই কম বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনের ফল বেরনোর পর বর্তমান বিধানসভায় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের হার দাঁড়াল মাত্র ৬ শতাংশ। ভারতের স্বাধীনতার পরে এই প্রথম রাজ্যটিতে কোনো মুসলিম বিধায়ক মন্ত্রী হতে পারবেন না।

নির্বাচনে সপা-কংগ্রেস জোট, এবং বিএসপির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হলেও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বিজেপিই এবার এখানে বিপুলভাবে জয়ী হওয়ায় এবং তাদের কোনো মুসলিম বিধায়ক না থাকায় স্বাভাবিকভাবে তাদের মন্ত্রী হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।

বিজেপিতে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর কাছে।

কোনো মুসলিমকে প্রার্থী না করা তাদের রণকৌশলের বিষয় ছিল। বিগত সাধারণ নির্বাচনের সময়ও দলের টিকিট বিলি করার দায়িত্ব ছিল অমিত শাহর হাতে। বিজেপি ৪৮২ প্রার্থী ময়দানে নামালেও মাত্র সাতজন মুসলিমকে সে সময় প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় প্রবল মোদি ঝড় থাকা সত্ত্বেও ওই সাত প্রার্থী পরাজিত হন। উত্তর প্রদেশ থেকে অবশ্য কোনো মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করানো না হলেও এখানে ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৭১ আসনে বিজেপি জয়ী হয়ে সবাইকে অবাক করে দেয়। বর্তমান লোকসভাতেও ক্ষমতাসীন বিজেপির কোনো মুসলিম এমপি নেই।

এর আগে গুজরাটেও একই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১২ সালের নির্বাচনে একজন মুসলিমকেও বিজেপি থেকে প্রার্থী করা হয়নি। সে সময় গুজরাটি গণমাধ্যমে একে অমিত শাহর রাজনৈতিক প্রয়োগ বলে মন্তব্য করা হয়। কেউ কেউ গুজরাটে হিন্দুত্বের পরীক্ষাগার বলে মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় গুজরাটের মুসলিমরা অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক অবস্থান থেকে উচ্ছেদ করতে বদ্ধপরিকর হয়েছে।

বিজেপির জন্য ওই সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক পরীক্ষা ছিল, যাতে তারা সম্পূর্ণ সফল হয়েছিল। পরে মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান ও হরিয়ানাতেও এর পুনরাবৃত্তি করা হয়। বিজপির দাবি, তারা ভোট ব্যাংকের অবসান ঘটাতে চায়। যেসব প্রার্থীর জেতার ক্ষমতা আছে তাঁদেরকেই প্রার্থী করা হয়েছে।

এনসিপি নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য মজিদ মেমন এ নিয়ে বলেন, ‘বিজেপি কোনো মুসলিমকে প্রার্থী না করায় তাদের কোনো মুসলিম বিধায়ক বিধানসভায় থাকছেন না। এ রকম অবস্থায় তারা উত্তর প্রদেশের মুসলিমদের বিভন্ন সমস্যা কিভাবে সমাধান করবে?’ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে সবার উন্নয়ন) স্লোগান দেওয়া বিজেপি মুসলিমদের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছে’ বলেও মজিদ মেমন মন্তব্য করেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য