kalerkantho


১০ কৌশলে উত্তর প্রদেশে বাজিমাত বিজেপির

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



১০ কৌশলে উত্তর প্রদেশে বাজিমাত বিজেপির

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পরদিন গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে পৌঁছলে তাঁকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ছবি : এএফপি

মোদি সুনামিতে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল রাহুল-অখিলেশ ‘সাথ’। গণরায়ে ১৪ বছর পর আবার উত্তর প্রদেশের ক্ষমতায় আসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

শনিবার ভোটের ফল প্রকাশ হতেই এক ঝটকায় বদলে গেল ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ। নোট বাতিল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের যাবতীয় সমালোচনায় জল ঢেলে ফের তিন বছর আগের স্লোগানেই মাতায়োরা বারানসি থেকে দিল্লি, ‘হর হর মোদি, ঘর ঘর মোদি’। শুধু টিপুর গড় দখলই নয়, উত্তরখণ্ডেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিপক্ষকে কার্যত নক-আউট করে দিয়েছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও অমিত শাহর তুখোড় রাজনৈতিক চালে ধরাশায়ী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস জোট। কোনো বুথ-ফেরত সমীক্ষাও আঁচ করতে পারেনি যে উত্তর প্রদেশে এত আসন পাবে বিজেপি। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো ১০টি কৌশল, যার সাহায্যে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৩১২টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

১. শুধু যাদব বংশের নন, অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু টিকিট বিতরণ। এই ভোটে ১৩০ জনেরও বেশি অ-যাদব প্রার্থীকে টিকিট দেয় বিজেপি।

২. জাতভ নন, এমন দলিতদের টার্গেট করা। পাসিরা ২৫টি, ধোপারা ৯টি মনোনয়ন জমা দেন বিজেপির পক্ষে। মূলত তাঁদের কথা মাথায় রেখেই অমিত শাহ একজন কুশওয়াহকে, কেশব মৌর্যকে রাজ্যের পার্টি প্রেসিডেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেন।

৩. পিছিয়ে পড়া অথচ জাতভ নন, এমন ব্যক্তি যেমন, কৃষ্ণা রাজ, নিরঞ্জন জ্যোতি ও আপনা দলের অনুপ্রিয়ার প্যাটেলদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে নিয়ে আসা।

৪. অখিলেশ যাদবের দল যে শুধু যাদবদের ওপরই নির্ভরশীল, মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি করে দেয় বিজেপি নেতৃত্ব। একইভাবে মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) ভিত্তি যে শুধু জাতভ বা জাটুয়ারা, স্বামী প্রসাদ মৌর্যদের নিশানা করে সেই জনমতও তৈরি করতে সক্ষম হন শাহরা।

৫. সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, নোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত যে মোদির মতো একজন শক্তিশালী নেতাই নিতে পারেন, তিনি যে আদতে গরিবদের পক্ষে সেই ধারণা মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

৬. উজ্জ্বলা যোজনা, শৌচাগার নির্মাণে ভর্তুকি, সস্তায় ইউরিয়া সার বিতরণে গতি এনে মানুষের মন জয় করে নেয় বিজেপি।

৭. জাতপাতের ভিত্তিতে উত্তর প্রদেশে রাজনীতি আর বরদাশত করা হবে না—বিজেপির এই প্রচার মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে, বিশেষত শিক্ষিত যুবকদের মনে।

৮. হিন্দুত্ববাদী তাস, অযোধ্যায় রামমন্দিরের আশ্বাস বিজেপিকে বাড়তি মাইলেজ দেয় ভোটে।

৯. মুসলিমদের কোনো টিকিট না দিয়ে দলের হিন্দুঘেঁষা চরিত্রকে আরো স্পষ্ট করে তোলা।

১০. অখিলেশ বা মায়াবতীর মতো কোনো মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ছিলেন না বিজেপির। কারণ বিজেপি নেতারা জানতেন, ভোটের আগে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরলে দলের মধ্যে কোন্দল বেধে যেতে পারে, তাই মোদিকেই বিজেপির মুখ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। মোদির প্রভাবেই অন্তত ৫০টি আসনে দুর্বল প্রার্থী সত্ত্বেও জিতে গেছে বিজেপি, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।

 


মন্তব্য