kalerkantho


যেখানে এক বক্স খাবারে ‘পুনর্জন্মের অনুভূতি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যেখানে এক বক্স খাবারে ‘পুনর্জন্মের অনুভূতি’

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সর্বশেষ ঘাঁটি মসুলের অনেকটা অংশ পুনর্দখল করেছে সরকারি সেনারা। কিন্তু আতঙ্ক আর ভয় এখনো পিছু ছাড়েনি সেখানকার বাসিন্দাদের।

পশ্চিম মসুলের লোকজন জানায়, কয়েক মাস ধরে দিনে একবারের বেশি আহার জুটত না তাদের। যদিও আইএস যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারে প্রচুর খাবার মজুদ ছিল।

পশ্চিম মসুলের যেসব এলাকা আইএসমুক্ত হয়েছে, সেসব এলাকা ঘুরে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাতেই উঠেছে সেখানকার নিরীহ মানুষের অসহায়ত্ব।

গত বুধবার আল-মানসুর এলাকা পুনর্দখল করে সেনারা। সেখানকার বাসিন্দা খালেদ মেশাল বলেন, ‘আমরা ছয় মাস ধরে বন্দিদশায় ছিলাম। কিছু খাবার মজুদ ছিল। কিন্তু সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। এখন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

৪৫ বছর বয়সী আবু আহাদ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘দোকানপাটে কোনো খাবার নেই। খাবার বলতে আমাদের কাছে কিছু চাল, আটা আর খেজুর ছিল। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি সড়কে ত্রাণের গাড়ি থামতেই লোকজনের ভিড়। কে কার আগে খাবার নেবে, সেই প্রতিযোগিতা। লোকজনকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে কখনো কখনো ফাঁকা গুলি ছুড়ছে সেনারা।

খাবারের বক্স পাওয়ার পর ফাহাদ ফাদেল নামের এক ব্যক্তি জানান, ঘরে তাঁর পাঁচ সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে। ‘এই খাবার পাওয়ার পর মনে হলো, আমার পুনর্জন্ম হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে বাজার একেবারে খালি। আমরা পানি, কিছু গম ও টমেটোর সস মজুদ করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো শেষ হওয়ার পর যে পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তা এককথায় জাহান্নাম। ’

ইয়াসির নাবিল নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আইএস যোদ্ধা কিংবা তাদের পরিবারে খাবারের অভাব ছিল না। পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুদ ছিল তাদের। আমাদের কোনো শিশু অনাহারে পড়ে থাকলেও তারা চেয়ে দেখত না। ’

সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ইয়াসির নাবিল জানান, ঘরে তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা ছাড়াও স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রয়েছে। ‘পরিবারের সবাই আমার কাছে খাবার চায়। কিন্তু খাবার দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। ’

উল্লেখ্য, মসুল ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। তাইগ্রিস নদীর কারণে দুই ভাগে বিভক্ত এ শহর ২০১৪ সালে দখল করে নেয় আইএস যোদ্ধারা। তাদের বিরুদ্ধে সেখানে চার মাস আগে সরকারি সেনাদের অভিযান শুরু হয়। বিমান হামলার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোট। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য