kalerkantho


কায়রোর ভূগর্ভে ৩০০০ বছরের পুরনো ৩০ ফুট মূর্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কায়রোর ভূগর্ভে ৩০০০ বছরের পুরনো ৩০ ফুট মূর্তি

মিসরের কায়রোতে এক জনাকীর্ণ এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ির একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে প্রায় ৩০ ফুট লম্বা এক ফারাও মূর্তির দেখা পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দ্বিতীয় রামসেসের মূর্তি।

ইতিমধ্যে মূর্তির বিশাল মাথাটি তুলে আনা হয়েছে। তবে খণ্ডিত হয়ে পড়া মূর্তিটির একেবারে গোড়ার দিকটা শেষ পর্যন্ত হয়তো তোলা সম্ভব হবে না, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

কায়রোর মাতারিয়া এলাকায় ২০১২ সালে খননকাজ শুরু করে মিসর ও জার্মানির প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল। দলের জার্মান অংশের নেতৃত্বে থাকা ইউনিভার্সিটি অব লিপজিগের বিশেষজ্ঞ দিয়েত্রিচ রয়ে জানান, তিন হাজার বছরের পুরনো মূর্তিটা যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে এবং এর আশপাশের প্রায় পুরোটাতেই তাঁরা সন্ধান শেষ করে এনেছিলেন। বিশেষ কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে, এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময় ভূগর্ভে দেখা মিলল বিশালকায় এ মূর্তির। জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক রয়ে বলেন, ‘সুতরাং চমকটা ছিল অসাধারণ। ’

দ্বিতীয় রামসেস ছিলেন প্রাচীন মিসরের ১৯তম রাজবংশের অন্যতম শাসক। খ্রিস্টপূর্ব ১২৭৯ থেকে ১২১৩ সাল পর্যন্ত তিনি সাম্রাজ্য শাসন করেছেন।

ওই সময় তিনি নুবিয়া উপত্যকা দখল করে নেন, যা আজকের দিনে সুদান ও সিরিয়া নামে পরিচিত। কায়রোতে খুঁজে পাওয়া মূর্তিটি দ্বিতীয় রামসেসের কি না, তা নিয়ে দোলাচল থাকলেও খনিজ কোয়ার্টজে তৈরি এ মূর্তির সন্ধান লাভ করাটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার বলে মনে করছে মিসরের পুরাতাত্ত্বিক মন্ত্রণালয়।

মূর্তিটি তোলার সময় প্রত্নতাত্ত্বিকদের সঙ্গে ছিলেন মিসরের পুরাতত্ত্বমন্ত্রী ও অন্য কর্মকর্তারা। পুরাতত্ত্বমন্ত্রী খালেদ আল-আনানি জানান, মূর্তিটি ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের বলেই তাঁদের ধারণা। মন্ত্রণালয়ের প্রাচীন মিসরীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মাহমুদ আফিফি অবশ্য জানান, মূর্তির গায়ে পরিচয়সূচক কিছু খোদাই করা নেই। ফলে মূর্তিটি ঠিক কার আদলে তৈরি করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না। তবে দ্বিতীয় রামসেসের উদ্দেশে উৎসর্গ করা মন্দিরের ফটকের কাছে মূর্তিটি খুঁজে পাওয়ার কারণে সেটা তাঁর বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খোঁড়াখুঁড়ির সময় ৩১ ইঞ্চি একটি কুঠুরি পাওয়া যায়, যেখানে দ্বিতীয় রামসেসের নাতি দ্বিতীয় সেতির চুনাপাথরের মূর্তি পাওয়া গেছে।

রয়ে জানান, মূর্তির মাথা তো বটেই, মুকুট, চোখ, ঠোঁটসহ বিভিন্ন খণ্ডিতাংশ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এর পরও সেটা হয়তো পুরোপুরি আগের আদলে তৈরি করা যাবে না। ঘাড় থেকে পেট পর্যন্ত ভাঙা অংশ উদ্ধারে কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, পেটের নিচের অংশও সেখানেই আছে। কিন্তু লম্বা এ মূর্তির গোড়ার দিকটা পর্যন্ত উদ্ধার করতে গেলে অনেকটা খুঁড়তে হবে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা হলো, আমরা শহরের একেবারে মাঝখানে রয়েছি। মূর্তির গোড়ার দিকটা বাড়ির কাছাকাছিই হবে। একেবারে বাড়ি পর্যন্ত খোঁড়াটা বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে গোড়ার দিকটা হয়তো উদ্ধার করা হয়ে উঠবে না। ’

দ্বিতীয় রামসেসের মন্দিরটি যেখানে অবস্থিত, সেটি প্রাচীন হেলিওপোলিস এলাকার মধ্যে পড়ে। গ্রিক-রোমান আমলে এ এলাকা ধ্বংস করে ফেলা হয়। আর মূর্তিগুলো লুট করে আলেকজান্দ্রিয়ায় অথবা ইউরোপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে কায়রো পুনর্গঠনকালে ওই এলাকার ধ্বংসাবশেষগুলো পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে যে মূর্তিটি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে, বলাই বাহুল্য, সেটি কোনো না কোনোভাবে এ এলাকায় থেকে গেছে। সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য