kalerkantho


কুকুর নিয়ে ঝগড়া থেকে পার্কের পতন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুকুর নিয়ে ঝগড়া থেকে পার্কের পতন!

দুর্নীতির অভিযোগে পার্লামেন্টে অভিশংসিত হওয়ার পর আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতির হাঁড়ির খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা বলছেন এক বিচিত্র ঘটনার কথা। তাঁদের মতে, এই পতনের সূচনা হয়েছিল একটি কুকুরছানা নিয়ে ঝগড়া থেকে।

ঝগড়াটি বেধেছিল প্রেসিডেন্ট পার্কে বান্ধবী চোই সুন সিল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক সাবেক ফেন্সিং তারকা কো ইয়ং তাইয়ের মধ্যে। সুদর্শন এবং সুঠাম দেহের অধিকারী ৪০ বছর বয়সী কো ইয়ংয়ের সঙ্গে ৬০ বছর বয়সী চোইয়ের সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় গুঞ্জনের শেষ ছিল না। তবে তাঁরা কখনোই প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। সম্পর্কটা শুধুই বন্ধুত্বের।

তবে সেই ‘বিখ্যাত’ ঝগড়ার কারণ কী? কো ইয়ং পরে নিজেই বর্ণনা করেছেন সেটা সাংবাদিকদের কাছে।

চোইয়ের মেয়ের একটি পোষা কুকুরছানা ছিল এবং একদিন চোই সেই কুকুরটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন কো ইয়ংকে। তিনি কুকুরটি তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেটাকে ঘরে রেখে তিনি বেরিয়ে যান গলফ খেলতে। খেলা শেষে বাড়ি ফিরে কো ইয়ং দেখেন, সেখানে বসে আছেন চোই এবং তিনি চরম ক্ষিপ্ত।

কারণ কো ইয়ং কুকুরটিকে বাড়িতে একা রেখে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া হয়। চোইয়ের আচরণ আর গালাগালিতে কো ইয়ং এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চোইয়ের সম্পর্কের কথা তিনি ফাঁস করে দেবেন।

এরপর কো ইয়ং প্রেসিডেন্ট পার্কের ওপর চোইয়ের প্রভাব খাটানোর প্রমাণ সংগ্রহ করেন। এমন সব সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করেন, যেখানে দেখা যায় চোই প্রেসিডেন্টের সহকারীদের তাঁর ব্যক্তিগত চাকরবাকরের মতো ব্যবহার করছেন। এরপর এসব প্রমাণ তিনি একটি স্থানীয় মিডিয়ার হাতে তুলে দেন।

চোই সুন সিলের সঙ্গে কো ইয়ংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তিনি ফেন্সিংয়ে এশিয়ান গেমস স্বর্ণপদক জেতার পর ‘ভিলোমিলো’ নামে মেয়েদের পোশাক ও হ্যান্ডব্যাগ তৈরির একটি কম্পানি খোলার পর। পরিচয়ের পর চোইকে পোশাক সরবরাহ শুরু করেন কো ইয়ং, যেসবের আসল গ্রাহক ছিলেন প্রেসিডেন্ট পার্ক। প্রেসিডেন্টকে তিনি উটপাখি ও কুমিরের চামড়ার তৈরি হাজার হাজার ডলার দামের হ্যান্ডব্যাগ এবং অন্যান্য দামি পোশাক সরবরাহ করেন। কো ইয়ং বলেছেন, এসব পোশাকের দাম পরিশোধ করতেন চোই।

প্রেসিডেন্ট পার্কের হাতে ভিলোমিলোর হ্যান্ডব্যাগ দেখা যাওয়ার পর কো ইয়ংয়ের সুনামও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে চোইয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক। গত অক্টোবরে কো ইয়ং এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, চোইয়ের সবচেয়ে প্রিয় পার্কের প্রেসিডেনশিয়াল ভাষণগুলো সম্পাদনা করা। এরপর রিপোর্টাররা খুঁজে বের করেন একটি ছবি, যেটা চোইয়ের সেলফি, তার পাশে ছিল প্রেসিডেন্টের ভাষণের কাগজপত্র।

এরপর আরো অভিযোগ ওঠে চোইয়ের বিভিন্ন সন্দেহজনক ব্যবসায়িক তৎপরতা নিয়ে। জনমনে তৈরি হয় ব্যাপক ক্ষোভ। শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পার্ক স্বীকার করে, তিনি তাঁর বান্ধবীকে সরকারের কাজকর্মে নাক গলানোর অন্যায় সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত এসব অভিযোগই পার্কের অভিশংসন ডেকে এনেছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।


মন্তব্য