kalerkantho


অভিশংসন দেশে দেশে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অভিশংসন দেশে দেশে

এই তো, গেল বছরের শেষ দিকে অভিশংসিত হতে হলো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফকে। মাস ছয়েকের মাথায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইকে মেনে নিতে হলো একই পরিণতি। গতকাল শুক্রবার তাঁর অভিশংসনের চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। তাঁরা দুজনই নিজ দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

এশিয়া থেকে আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নানা কারণে অনেক প্রেসিডেন্টকে মেয়াদপূর্তির আগেই পদ ছাড়তে হয়েছে। কোনো প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট অভিশংসিত করেছে, আবার কেউ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তবে অভিসংশনের সব চেষ্টাই যে সফল হয়েছে—এমন নয়। এর সবচেয়ে আলোচিতটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনেরটি। তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে যান।

অভিশংসিত হয়েছেন যাঁরা : অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও আত্মসাতের অভিযোগে ১৯৯৩ সালের ৩১ আগস্ট ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট কার্লোস আন্দ্রেসকে অভিশংসিত করে পার্লামেন্ট।

ইকুয়েডরের প্রেসিডন্ট আবদালা বুকারামের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগ ছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সরে যেতে বাধ্য হন তিনি। এ ছাড়া তুমুল জনপ্রিয়তার অপব্যবহার করে মিত্রদের সহযোগিতায় সুপ্রিম কোর্টকে হাত করে নেওয়ার অভিযোগে দেশটির আরেক প্রেসিডেন্ট লুসিও গুতেরেসকে ২০০৫ সালের এপ্রিলে সরিয়ে দেয় পার্লামেন্ট।

পেরুর ঘটনা একটু ভিন্ন। দুর্নীতি ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ২০০০ সালের ২১ নভেম্বর জাপানের রাজধানী টোকিওতে বসে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় পার্লামেন্ট।

অদক্ষতা ও দুর্নীতির দায়ে ২০০১ সালের ২৩ জুলাই পদচ্যুত হন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদুর রাহমান ওয়াহিদ।

অর্থের বিনিময়ে এক রুশ ব্যবসায়ীকে লিথুনিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট রোলান্ডাস পাকসাসকে ২০০৪ সালের ৬ এপ্রিল অভিশংসিত করে পার্লামেন্ট।

ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ জুন পদচ্যুত হন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো লুগো।

বাজেটে অবৈধ হস্তক্ষেপের দায়ে গত বছর ৩১ আগস্ট ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফকে অভিশংসিত করে পার্লামেন্ট।

পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন যাঁরা : আলোচিত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিশংসিত হতে পারেন, এমনটা টের পেয়ে আগেই পদত্যাগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। দিনটা ছিল ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো কোলর দে মেলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পার্লামেন্টে তাঁর অভিশংসনের শুনানি শুরুর পরপরই ১৯৯২ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন।

কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট এজের ওয়েইজম্যান অভিশংসিত হওয়ার আশঙ্কায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান, যা ২০০০ সালের ১৩ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। ধর্ষণসহ আরো কিছু যৌন হয়রানির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সরে যাওয়া আরেক ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট মোশে কাতসাভের পদত্যাগ কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে।

ঘুষ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট ওটো পেরেজ অভিশংসিত হওয়ার আগেই ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য