kalerkantho


‘সিআইএর কন্ট্রাক্টররাই সাম্প্রতিক ফাঁসের উৎস’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘সিআইএর কন্ট্রাক্টররাই সাম্প্রতিক ফাঁসের উৎস’

সিআইএর হ্যাকিং কৌশল নিয়ে উইকিলিকসে প্রকাশিত সাম্প্রতিক নথিগুলো সংস্থাটির ‘কন্ট্রাক্টর’দের হাত দিয়েই ফাঁস হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দাবিষয়ক দুই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার তাঁরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সিআইএর বিভিন্ন হ্যাকিং কৌশল নিয়ে উইকিলিকস যেসব নথি প্রকাশ করেছে সেগুলো ‘নির্ভরযোগ্য’।

উইকিলিকসের কয়েক হাজার নথি মঙ্গলবার প্রকাশিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত বছরের শেষ দিক থেকে এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিল বলে দাবি এই দুই কর্মকর্তার। তাঁদের একজন বলেছেন, সিআইএর ঠিকাদারি করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সঙ্গে উইকিলিকসের সাম্প্রতিক ফাঁসের বিষয়বস্তুর যোগ আছে, তাদের কম্পিউটার, ই-মেইল এবং অন্যান্য যোগাযোগযন্ত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার উইকিলিকসও বলেছিল, সিআইএ তাদের একটি আর্কাইভের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যেখানে তাদের হ্যাকিং কৌশলের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সিআইএর হয়ে কাজ করত, এমন সব হ্যাকার ও ঠিকাদারদের মধ্যে ওই আর্কাইভটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদেরই কেউ উইকিলিকসকে নথি সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্স লিখেছে, বাজেট ঘাটতির কারণে সিআইএর অনেক কাজ ঠিকাদারদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিআইএর সঙ্গে কাজ করছে এমন ঠিকাদারের সংখ্যা অনেক। আর অতি গোপনীয় তথ্যে অনেকের প্রবেশাধিকার থাকায় তথ্য আসলে কার হাত দিয়ে ফাঁস হয়েছে—তা বের করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, নথি ফাঁসের ঘটনায় এফবিআই ও সিআইএ উভয় প্রতিষ্ঠানই তদন্ত শুরু করবে বলে তাঁর ধারণা।

ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়ায় উইকিলিকস ও এর কর্মকর্তাদের নিয়ে বছরখানেক ধরেই তদন্ত চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে সেই তদন্তের সঙ্গে এই নতুন ফাঁসও যুক্ত হবে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, সিআইএর হ্যাকাররা চাইলে অ্যাপলের আইফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এ ছাড়া যেসব ডিভাইস গুগলের অ্যানড্রয়েড সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেগুলো এবং অন্যান্য গেজেটে ঢুকে ব্যবহারকারীর ভয়েস ও টেক্সট মেসেজ পড়তে পারে। সিআইএর এ বিস্তৃত হ্যাকিং কৌশলের আওতায় স্যামসাংয়ের স্মার্ট টিভিগুলোও আছে বলে উইকিলিকসের প্রকাশিত নথিতে জানা গেছে।

উইকিলিকসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন, এমন একজন রয়টার্সকে বলেছেন, সিআইএর হ্যাকিংবিষয়ক এসব নথি গোপনীয়তাবিরোধী ওয়েবসাইটটির কাছে কয়েক মাস ধরেই ছিল। তারা অনেক দিন ধরেই এ নিয়ে কাজ করছে। প্রকাশিত এসব নথিতে সিআইএর সংবেদনশীল কর্মকৌশলের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, যা গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তাঁদের ভাষ্য, যে প্রতিষ্ঠানের কাজই হচ্ছে অন্যের গোপনীয় তথ্য চুরি করা, তারা এখন নিজেদের তথ্যই সামলাতে পারছে না।

উইকিলিকসের নতুন এ ‘ফাঁসের’ কারণে সিআইএ এত দিন যাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল তারা কৌশল বদলে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তারা। হোয়াইট হাউস বলছে, সিআইএর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। ‘যে বা যারাই গোপন তথ্য ফাঁস করেছে তাদের সর্বোচ্চ আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে’, বলেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার।

উইকিলিকসের ফাঁস করা নথির বেশ কয়েকটিতে ফ্রাংকফুর্টের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভেতর সিআইএ একটি হ্যাকিং হাব বসিয়েছিল—এমন ইঙ্গিত থাকায় জার্মানি জানিয়েছে, তারা নথিগুলো পর্যালোচনা শুরু করেছে। উইকিলিকসের ফাঁস নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সিআইএ। তারা বলছে, অতিরঞ্জিত গোয়েন্দা নথির সত্যতা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে আমেরিকাকে সন্ত্রাসী, শত্রু দেশ ও অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়। সূত্র : বিডিনিউজ।


মন্তব্য