kalerkantho

সিআইএ ফাঁপরে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হ্যাকিং, নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি—বিতর্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকে ফের চাঙ্গা হয়েছে। এসব বিতর্কে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর তালিকায় শীর্ষ আছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন।

এর সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নতুন করে ফাঁসতে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা—সিআইএ। অভিযোগটি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চেনা শত্রু’ উইকিলিকস।

এর আগে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তোপের মুখে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা—এনএসএ। তাদের গুপ্তচরবৃত্তি ফাঁস করেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। এবার তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছে সিআইএ। উইকিলিকসের দাবি, সিআইএ বিভিন্ন সাইবার অস্ত্র ও ম্যালওয়ার ব্যবহার করে উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, ওএসএক্স, লিনাক্স কম্পিউটার ও ইন্টারনেট রাউটার হ্যাক করে নজরদারি করছে। এমনকি নজরদারি চালাচ্ছে টেলিভিশনে বিশেষ যন্ত্র বসানোর মাধ্যমেও। আর এসব যন্ত্র কিংবা সফটওয়্যার বানানোর পেছনে সহযোগিতা করছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারাও।

বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, বিষয়টি মুকাবিলা করা সিআইএর পক্ষে অনেক কঠিন হবে।

কারণ যে সংস্থার (সিআইএ) অন্যতম কাজ হলো অন্যের নথি চুরি করা, সেই সংস্থা নিজেদের তথ্যই সংরক্ষণ করতে পারছে না।

উইকিলিকসের খবর অনুযায়ী, জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটকে এই গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার করা হয়। এর আগে স্নোডেনের তোলা অভিযোগেও এ ধরনের ইঙ্গিত ছিল। এ নিয়ে ওই সময় দুই দেশের সম্পর্কে এ নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সিআইএর জন্য আরেকটি বিপদ হলো—এই খবর ফাঁস হওয়ার কারণে তাদের নজরদারির কৌশল প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। কারণ, তাদের নজরদারির কৌশল এখন সবাই জেনে গেছে। সবাই ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ নতুন করে ঢেলে সাজাবে। এ অবস্থায় আবার নতুন কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা তাদের জন্য কঠিন, সময়সাপেক্ষও বটে। এ ছাড়া নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তির তথ্য গোপনের অধিকার নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তাদের।

উইকিলিকসের ভাষ্য, মার্কিন সরকারের হয়ে কাজ করা কোনো হ্যাকার কিংবা ঠিকাদার বিষয়টি তাদের কাছে ফাঁস করেছে। যদিও সিআইএ অবশ্যই খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, কে বা কারা বিষয়টি ফাঁস করেছে। এই ফাঁসকারীর সন্ধান পেলে আবার বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মিলবে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য