kalerkantho


উত্তর কোরিয়া-মালয়েশিয়ার পাল্টাপাল্টি

পরস্পরের নাগরিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কিম জং নাম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার বিরোধ মারাত্মক অবনতির দিকে গেছে। পিয়ংইয়ং হঠাত্ করে উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত মালয়েশীয়দের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এর পাল্টা জবাব হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদেরও দেশ ছেড়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কুয়ালালামপুর। মালয়েশিয়া বলেছে, তার দেশের নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া থেকে বের হতে না দেওয়া তাদের জিম্মি করার শামিল।   

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সত্ভাই নামের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে মালয়েশিয়া অবিচল থাকায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং ওই পদক্ষেপ নেওয়ায় ওই অঞ্চলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নামকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বিষাক্ত রাসায়নিক ভিক্স নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগে হত্যা করা হয়। মালয়েশিয়া এ ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেনি, তবে পিয়ংইয়ংয়ের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তারা ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের ডিএনএ নমুনা না পেলে মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে দেশ দুটির সম্পর্ক ক্রমাগতভাবে অবনতির দিকে গেছে। নাম হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তর কোরিয়াই দায়ী বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, ‘মালয়েশিয়ার নাগরিকদের গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া ত্যাগের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় যা ঘটেছে এর যথাযথভাবে সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকবে।

’ আরো বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় থাকা উত্তর কোরিয়ার নাগরিক ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও উত্তর কোরিয়ায় থাকা মালয়েশীয়রা স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।

ক্ষুব্ধ মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এ ব্যবস্থাকে ‘জঘন্য আচরণ’ অভিহিত করে বলেছেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ বরখেলাপ। ’ তিনি বলেন, ‘কার্যত মালয়েশীয়দের জিম্মি করা হয়েছে। আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়াই এখন আমার প্রধান বিবেচ্য। তারা নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হলে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করব না আমরা। ’

এর পরই মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহিদ হামিদি প্রথমে ঘোষণা দেন, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কর্মী ও কর্মকর্তাদের মালয়েশিয়া ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে না। কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী নাজিব জানিয়ে দেন, মালয়েশিয়ায় থাকা উত্তর কোরিয়ার সবাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে।

মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ায় ১১ জন মালয়েশীয় আছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। এদের বেশির ভাগই কূটনীতিক। আর মালয়েশিয়ায় আছে প্রায় এক হাজার উত্তর কোরীয়।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য