kalerkantho


জাপানের জলসীমায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জাপানের জলসীমায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এশীয় মিত্র জাপানের জলসীমায় গতকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর সপ্তাহ না পেরোতেই উত্তর কোরিয়ার এ কার্যক্রমকে মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বার্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বুধবার ‘ফোর ইগল’ শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। আর গতকালই উত্তর কোরিয়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করে। এর মধ্যে তিনটি জাপানের পূর্ব সাগরে পড়েছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাপানের কোস্ট গার্ড। জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। এর আগে গত বছর আগস্টে একই অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। জাপানের জলসীমায় দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কারণ সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ুংনাম ইউনিভার্সিটির ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ কিম দং ইয়ুপের অভিমত, ‘উত্তর কোরিয়া সম্ভবত দেখাতে চাইছে, তারা একই সঙ্গে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত করতে সক্ষম। ’

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, উত্তরের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপানের জলসীমায় পড়েছে। এগুলো আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে দক্ষিণের সরকার।

প্রসঙ্গত, পরমাণু ক্ষমতাধর উত্তর কোরিয়ার সরকার আইসিবিএম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জানান, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র টোকিওর বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে পড়েছে। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া হুমকির এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ’ এটা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কখনোই এটা বরদাশত করতে পারি না। ’

উত্তর কোরিয়ার অন্যতম মিত্র চীন ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের নিন্দা জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে গতকাল বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়ার সাংবিধানিক নাম) ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা করা উচিত এবং পরস্পরকে উসকানি দেয় অথবা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা উচিত। ’

সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য