kalerkantho


অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র নয় কানাডাই স্বর্গ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের ছোট্ট শহর ক্যামপ্লেইন। কানাডার একেবারে সীমান্ত ঘেঁষে এর অবস্থান।

গাট্টি-বোঁচকা বেঁধে ট্যাক্সিতে চেপে বহুদূর থেকে এ শহরে পৌঁছেছেন আহমেদ পরিবার। দুটি শিশু আর স্ত্রীকে নিয়ে নিউ ইয়র্কের দক্ষিণের শহর জার্সি থেকে ৩০০ মাইল ছুটে সীমান্তে এসেছেন তাঁরা। জানালেন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে ১১ মাস আগে পাকিস্তান থেকে আশ্রয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আর থাকার সাহস করতে পারছেন না। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যেকোনো সময় তাঁদের বের করে দেওয়া হতে পারে। এ কারণেই কানাডা।

মাঝে ছোট্ট একটা নদী পার হয়ে গেলেই সেই নিরাপত্তার ছাদ মিলবে যার খোঁজে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে উড়ে গিয়েছেন তাঁরা। কানাডায় পৌঁছানোর পর তাঁদের অভিবাসনের আবেদনের প্রক্রিয়া সারতে খুব বেশি সময় লাগল না। সব ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই এই পরিবারটি মন্ট্রিয়লে পুনর্বাসন করা হবে।

গত সপ্তাহে শুধু এই সীমান্ত দিয়েই কানাডায় প্রবেশ করেছে অন্তত ৭০ অভিবাসী। স্থানীয় পুলিশের হিসাব মতে, তাদের বেশির ভাগই মুসলমান। হাইতি আর কলম্বিয়ার নাগরিকের পাশাপাশি সিরিয়ার লোকজনকেও পেয়েছে পুলিশ।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণের পর গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে সাত মুসলিম দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর মধ্যে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে অনির্দিষ্টকালের জন্য। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি বিমানবন্দরে  আদেশ বাস্তবায়নে কড়াকড়ি শুরু হয়। ফলে তৈরি হয় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। পরে স্থানীয় আদালত এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। কয়েক রাজ্য আদালত ঘুরে শেষ পর্যন্ত একটি কেন্দ্রীয়  আদালতের আদেশে আদেশে স্থগিত হয়ে যায় ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ। আজ সোমবার নতুন করে অভিবাসনসংক্রান্ত আদেশ জারির কথা রয়েছে।

ক্যামপ্লেইন শহরের নদীর তীরে বাস করেন মেলিসা বেশৌ নামের এক বৃদ্ধা। তিনি বললেন, ‘ট্রাম্পের আদেশ জারির পর থেকেই এ এলাকায় গাড়ির চলাচল বেড়েছে। আগে এমন কিছু ঘটলে আমি বের হয়ে দেখতাম। এখন আর দেখার চেষ্টা করি না। আমি জানি কী ঘটছে। ’ এ শহরে পৌঁছানোর আগে নিউ ইয়র্ক রাজ্যের শেষ জায়গাটির নাম প্লাটসবার্গ। কানাডায় যেতে চান এমন লোকেরা এখানেই নামেন এরপর ট্যাক্সি নিয়ে ক্যামপ্লেইনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্লাটসবার্গের এক মোটেলকর্মী জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই এখানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০ থেকে ২৫ জন করে আসছে।

তবে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে যত লোক অভিবাসনের আশায় ছুটছে তাদের চেয়ে এই সংখ্যা বেশ কম।

কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। এ প্রবণতা নতুন। কারণ এত দিন যুক্তরাষ্ট্রও বিদেশিদের স্বাগত জানিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও নানা সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেছেন। সর্বপরি তার জারি করা নির্বাহী আদেশের কারণে অভিবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য