kalerkantho


‘প্রমাণ ছাড়া’ মন্তব্য করে বেকায়দায় ট্রাম্প

ওবামার বিরুদ্ধে আড়ি পাতার অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘প্রমাণ ছাড়া’ মন্তব্য করে বেকায়দায় ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। ছবি : এএফপি

পূর্বসূরি বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ তুলে ‘বেকায়দায়’ পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি উঠেছে, ট্রাম্পকে এ অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে।

আর এ দাবি তুলেছেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের সিনেটরও। এদিকে বারাক ওবামার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কখনোই কোনো মার্কিনির ওপর নজরদারির নির্দেশ দেননি।

গত শনিবার সকালে টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘ভয়াবহ! ট্রাম্প টাওয়ারে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে জয়ের ঠিক আগে আগে ওবামা আমার ফোনে আড়ি পেতেছিলেন। কিছুই পাননি। ’ ট্রাম্প আরো লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত যে একজন ভালো আইনজীবী এ নিয়ে একটি শক্ত মামলা তৈরি করে ফেলতে পারবেন। গত অক্টোবরে এ কাজ করিয়েছিলেন ওবামা। ’ এখানেই থামেননি ট্রাম্প। ওবামাকে আক্রমণ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ফোনে আড়ি পাতার জন্য বারাক ওবামা কতটা নিচে নেমেছিলেন!’ এ ঘটনার সঙ্গে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিরও তুলনা করেন ট্রাম্প। যদিও অভিযোগের কোনো ব্যাখ্যা কিংবা প্রমাণ হাজির করেননি তিনি।

শনিবারই ওবামার মুখপাত্র কেভিন লুইস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা কোনো দিন মার্কিনিদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দেননি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ওবামা প্রশাসনের প্রধান নীতি ছিল, বিচার বিভাগের নেতৃত্বাধীন কোনো তদন্তে হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ’

ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন বেন রোডেস। এক পাল্টা টুইটার বার্তায় ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে তিনি লেখেন, ‘কোনো প্রেসিডেন্টই আড়ি পাতার নির্দেশ দিতে পারেন না। আপনার (ট্রাম্প) মতো ব্যক্তির হাত থেকে মার্কিনিদের রক্ষা করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ’

রিপাবলিকান সিনেটর বেন সাসে বলেছেন, ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ‘ভয়াবহ’। এ কারণে ট্রাম্পকে অবশ্যই অভিযোগের ব্যাখ্যা হাজির করতে হবে। তাঁকে বলতে হবে, এ অভিযোগের উৎস কী!

সম্প্রতি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা ফাঁস হওয়ায় প্রচণ্ড চাপে আছে ট্রাম্প প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই ওবামার বিরুদ্ধে এ বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, গত মে-জুনের দিকে ট্রাম্পের লোকজনের ওপর নজরদারির জন্য ‘ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স কোর্টের’ (ফিসা) কাছে অনুমতি চায় এফবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা)। ট্রাম্পের লোকজন রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অনুমতি চায় তারা। প্রথমে সেই অনুমতি দেয়নি ফিসা। কিন্তু গত অক্টোবরে সেই অনুমতি পেয়ে যায় এফবিআই। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয়, এ নজরদারির সঙ্গে ট্রাম্পের তোলা অভিযোগের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য