kalerkantho


লিবিয়া ছাড়ার হার বাড়ছে

ইতালির উপকূল থেকে ৯ শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ইতালির উপকূলরক্ষীরা গত শুক্রবার আট মাস বয়সী সিরিয়ার দুই যমজ শিশুসহ ৯০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে ইতালির উপকূলরক্ষীরা এ বছর সমুদ্র থেকে ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসী উদ্ধার করল। সাহায্য সংস্থাগুলোর বিশ্বাস, উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে বসবাস ক্রমে কঠিন হয়ে যাওয়া এবং মানবপাচারকারীদের জন্য সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার পথ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অভিবাসীদের আসার হার বেড়ে গেছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের প্রথম দুই মাসে যে হারে অভিবাসী এসেছিল, এ বছর তার থেকে অনেক বেশি অভিবাসী এসেছে। ইতালির উপকূলরক্ষীরা জানিয়েছে, শুক্রবার অভিবাসী উদ্ধারে ১০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। চারটি বড় রাবারের নৌকা এবং ছয়টি ছোট কাঠের নৌকা থেকে এসব অভিবাসী উদ্ধার করা হয়। ইউরোপিয়ান বর্ডার এজেন্সি ফ্রনটেক্স মিশনের নরওয়ের সিয়েম পাইলট এবং ফ্রান্সের এনজিও এসওএস মেডিটের‌্যানি পরিচালিত দি অ্যাকোয়ারিয়াস এবং ডক্টরস উইদআউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এই অভিযানগুলো পরিচালনা করে।

সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকায় শুক্রবারের উদ্ধার অভিযানে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী এজেন্সির হিসাব মতে, এ বছর লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ৪০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

২০১৩ সালের শেষ দিকে অভিবাসী সমস্যা শুরু হওয়ার পর থেকে লিবিয়া হয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ শরণার্থী ইতালিতে এসেছে। তাদের বেশির ভাগই আফ্রিকান, তবে সর্বশেষ দলে যারা গেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও সিরিয়ার নাগরিকও রয়েছে।

অ্যাকোয়ারিয়াসের নাবিকরা এএফপিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের মধ্যে ১৬ দেশের নাগরিক রয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় সদস্যের একটি সিরিয়ান পরিবার রয়েছে, যাদের সঙ্গে দুটি যমজ বাচ্চা আছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে সাতটি শিশু রয়েছে, যাদের বয়স এক বছরের নিচে এবং এক থেকে চার বছরের মধ্যে ১২টি শিশু রয়েছে।

উদ্ধারকৃত সিরিয়ান নিজেকে ‘এম’ নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমি লিবিয়াতে ছিলাম। আমার এক ভাই জার্মানি আছে। আমার পরিবারের সদস্যরা এখনো আলেপ্পোয় রয়েছে। গতকাল আমি তাদের আলেপ্পো ছেড়ে চলে আসতে বলেছি। লিবিয়া এখন এক সর্বনাশা জায়গা। সশস্ত্রদের উত্পাত, অর্থ নেই, কোনো সরকার নেই, দুই শহরের মধ্যে লড়াই লেগে আছে। আমার মনে হয়, এ বছরের শেষ দিকে সেখানে আর কোনো সিরীয় থাকবে না। আমি নিজে সিরিয়ায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পারিনি। এখন আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না। ’

ক্যামেরুনের এক নাগরিক বলেন, লিবিয়ায় এখন মানুষ বিক্রি হয়। কেউ যে অপহৃত হয়ে যাচ্ছে প্রথমে সে বুঝতেই পারছে না। কেউ হয়তো তাকে কাজের জন্য নিয়ে যাচ্ছে, কাজ শেষে পারিশ্রমিক দাবি করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সত্যিকারভাবেই খুব খারাপ। যখন তারা কোনো কালো রঙের মানুষ দেখে তখন তারা তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং তার পরিবারের সদস্যকে অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। শুধু কালোদের তারা ধরে নিয়ে যায়, অন্যদের নয়। এই অবস্থা থেকে উদ্ধারের একমাত্র পথ হচ্ছে পালিয়ে যাওয়া। সুতরাং কেউ যদি কালো হয়, তাহলে লিবিয়াতে অবশ্যই তাকে পালিয়ে থাকতে হবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য