kalerkantho


সিএনএনের বিশ্লেষণ

রুশ ফাঁদ থেকে ট্রাম্পের রেহাই নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রুশ ফাঁদ থেকে ট্রাম্পের রেহাই নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওরল্যান্ডোতে শুক্রবার সেইন্ট অ্যান্ড্রু ক্যাথলিক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী বেটসি ডেভোস, বড় মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও জামাই জার্ড কুশনার। ছবি : এএফপি

যেকোনো বিতর্কিত ইস্যুতে যেনতেন একটা টুইটার বার্তা দিয়ে সেই বিতর্ক উসকে দেওয়া, তাঁর নিজের ও মিত্রদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা অথবা এসবের কোনো কিছু না করে সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে সব কিছুর জন্য দায়ী করে ক্ষোভ ঝাড়া—এ যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিত্যদিনের কাণ্ড। কিন্তু এসব করে তিনি রাশিয়া নামক ‘জটিল সমস্যা’ থেকে রেহাই পাবেন না বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো বিরোধের প্রসঙ্গে আপাতত না এলেও চলবে। কেননা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াক ইস্যু নিয়েই ট্রাম্পের এখন চোখের জলে নাকের জলে একাকার অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছে কিসলিয়াক হলেন রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ গোয়েন্দাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসে রাশিয়ার স্বার্থসিদ্ধির জন্য গুপ্তচর সংগ্রহের কাজটাও তিনি বেশ ভালোভাবেই করে যাচ্ছেন বলে মনে করেন মার্কিন গোয়েন্দারা। সেই কিসলিয়াকের সঙ্গে ট্রাম্পশিবিরের লোকজনের অতীত কথোপকথন এখন যেন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনে ‘কিসলিয়াক’ নামটা যেন বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে।

রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় বসার আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কেউ কেউ রুশ কূটনীতিক কিসলিয়াকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, এমন খবর ফাঁস করে দেয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তারা জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতার মেয়াদ পূর্তির শেষ মুহূর্তে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করা, রাশিয়ার কাছে থাকা ট্রাম্পের অশ্লীল ভিডিওচিত্র ও ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য চেপে যাওয়া, নির্বাচনের আগে ট্রাম্পশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার আঁতাত—এগুলোই ছিল রুশ কূটনীতিক ও ট্রাম্পশিবিরের মধ্যকার বৈঠকের বিষয়। সংবাদমাধ্যমে তোলপাড়ের জেরে প্রথম পদত্যাগ করেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন।

প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের অভিষেকের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসও একই অভিযোগে জর্জরিত হচ্ছেন। এই তালিকায় এসেছে ট্রাম্পের বড় জামাই জার্ড কুশনারের নামও। অথচ প্রথম যখন রুশ কূটনীতিকের সঙ্গে ফ্লিনের গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস হয়, তখন ট্রাম্প টুইটারে লিখেছিলেন, ‘রুশ যোগাযোগের এসব বাজে কথা হিলারি ক্লিনটনের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রচারের অনেক ভুল চাপা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। ’

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। সরাসরি না হলেও সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্প পরস্পরের সঙ্গে প্রশংসাবাক্য বিনিময় করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প তাঁর রুশপন্থী অবস্থান বজায় রাখতে পারছেন না বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বোঝাতে তাঁরা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রসঙ্গ টেনেছেন। রাশিয়া তাদের পূর্ব ইউরোপীয় সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্রুজ মিসাইল মোতায়েন করেছে, যেটা ১৯৮৭ সালের এক পরমাণু অস্ত্র চুক্তির লঙ্ঘন বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। রাশিয়া অবশ্য দাবি করেছে, তারা চুক্তি ভাঙেনি। তারা ন্যাটোর তত্পরতার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে।

রুশ-মার্কিন সম্পর্কের তিক্ততার আরেকটি ইস্যু হলো ক্রিমিয়া। ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী অধ্যুষিত এ ভূখণ্ড ২০১৪ সালে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় রাশিয়া। ট্রাম্প একসময় রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিভুক্তকরণে সমর্থন জানালেও তাঁর প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের জাতিসংঘ দূত নিকি হ্যালে নিরাপত্তা পরিষদে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ক্রিমিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান প্রসঙ্গে স্পাইসার বলেন, ‘রুশ সরকার ইউক্রেনে সহিংসতা কমাবে এবং ক্রিমিয়া ভূখণ্ড ফিরিয়ে দেবে—ট্রাম্প তাঁর এ প্রত্যাশা স্পষ্ট করেছেন। ’ অন্যদিকে রাশিয়ার সাফ জবাব, ‘ক্রিমিয়াকে তারা ফিরিয়ে দেবে না। এটা রুশ ফেডারেশনের অংশ। ’

সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য