kalerkantho


সাগর দূষণকারী ‘প্লাস্টিক স্যুপের’ বড় উৎস টায়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সিনথেটিক কাপড়, টায়ার এমনকি প্রসাধনসামগ্রী থেকে খুদে কণার আকারে আলাদা হয়ে যাওয়া প্লাস্টিক সাগরে মিশে গিয়ে বিপত্তি ঘটাচ্ছে। এটাকে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বলা হয়। সাগর দূষণকারী প্লাস্টিকের ৩০ শতাংশই এই মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে জানিয়েছেন একদল বিজ্ঞানী।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিকসামগ্রী সাগরে পড়ার পর সেটা ভেঙে যতটা না দূষণ ঘটে, তার বেশি দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই ‘প্লাস্টিক স্যুপ’ দ্রুত সাগরের পানির সঙ্গে মিশে গিয়ে সামুদ্রিক জীবজগতের খাদ্যচক্রের মধ্যে ঢুকে পড়ছে।

আইইউসিএনের হিসাব অনুসারে, প্রতিবছর প্রায় ৯৫ লাখ টন প্লাস্টিক সাগরে পড়ছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ৩১ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক। কিন্তু কোথা থেকে আসছে এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক? এগুলো আসছে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস থেকেই। আইইউসিএন জানায়, সিনথেটিক কাপড়ের কারখানায় কাপড় ধোয়ার ফলে প্লাস্টিক কণা বেরিয়ে আসছে, গাড়ি চালানোর সময় তৈরি হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামের এসব খুদে কণা, এমনকি নানা রকম প্রসাধনসামগ্রী থেকে ছড়িয়ে পড়ছে মাইক্রোবিডস নামের এসব খুদে কণা। আর এগুলোর শেষ ঠিকানা হচ্ছে সাগর। প্রসাধনসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে খানিকটা সচেতন করা গেলেও সংশ্লিষ্ট বাকিদের ক্ষেত্রে কাজটা কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সামুদ্রিক কর্মসূচির ডেপুটি ডিরেক্টর ফ্রাঁসোয়া সিমার্দ বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ মাইক্রোপ্লাস্টিক আসছে হয় (সিনথেটিক) কাপড় থেকে নয় টায়ার থেকে। সাগরের সব জায়গায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে এবং খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ছে। ’

আইইউসিএনের ডিরেক্টর জেনারেল ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনের কাজ, এই যেমন কাপড় ধোয়া আর গাড়ি চালানো সাগর দূষণে মারাত্মক ভূমিকা রাখছে। এটা সাগরের বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ’

সমুদ্রজগতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধের উপায় বাতলাতে গিয়ে সংস্থাটির সামুদ্রিক কর্মসূচির মেরিন প্রজেক্ট ম্যানেজার জোয়াও ডি সুসা মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য