kalerkantho


‘আত্মঘাতী হওয়াকে শিল্পায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে আইএস’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘আত্মঘাতী হওয়াকে শিল্পায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে আইএস’

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) আত্মঘাতী হওয়াকে শিল্পায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং হামলা চালাতে তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কামিকাজি বৈমানিকদের হামলার ধরনকে অনুসরণ করছে। আইএস পরিচালিত হাজারখানেক আত্মঘাতী হামলার খবর, চিত্র ও অন্যান্য তথ্য খুঁটিয়ে দেখার পর তৈরি করা গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টার টেররিজমের সঙ্গে বর্তমানে যৌথভাবে কর্মরত চার্লি উইন্টার আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলার ওপর গবেষণা করেন। তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ওয়ার বাই সুইসাইড’। ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে পরের বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আইএস যেসব আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, সেগুলোই ছিল উইন্টারের গবেষণার বিষয়। তিনি জানান, এ সময়ে জঙ্গিগোষ্ঠীটি কমপক্ষে ৯২৩টি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।

উইন্টার জানান, মূলত আত্মরক্ষার জন্যই আইএস ওই সময় বেশির ভাগ হামলা চালিয়েছে। তাদের ৮৪ শতাংশ হামলা পরিচালিত হয়েছে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এবং সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল গাড়িবোমা হামলা। ট্রাক, কার, লরিসহ নানা ধরনের যানবাহনে বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বিস্ফোরক নিয়ে হামলাকারীরা শত্রুব্যূহে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ৭০ শতাংশ হামলায় গাড়িবোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে উইন্টার জানান। তিনি আরো জানান, আল-কায়েদা বিংশ শতাব্দীর শেষ বছরগুলোতে যেসব আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আইএসের হামলার যতটা না মিল রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মিল রয়েছে জাপানের কামিকাজি বৈমানিকদের কৌশলের সঙ্গে।

কামিকাজি বৈমানিকরা তাঁদের বিমান নিয়ে সরাসরি শত্রুর মাঝখানে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাত, যা সাধারণ হামলার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও শত্রুপক্ষের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতো। উইন্টার বলেন, ‘আইএসের যুদ্ধকুশলীরা তাদের কৌশলকে আরো শাণিত করেছে। তারা কেবল আরো শক্তিশালী ও আরো নির্ভরযোগ্য বিস্ফোরক তৈরি করে থামেনি। বরং চরমভাবে মগজ ধোলাই করা আত্মঘাতী যোদ্ধা তৈরির ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করেছে। ’

আইএসের আত্মঘাতী হামলাকারীদের বেশির ভাগই ইরাকি ও সিরীয়। মাত্র ২০ শতাংশ বিদেশি যোদ্ধা। বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে তাজিকিস্তানের নাগরিকরা। তালিকায় এরপর রয়েছে সৌদি আরব, মরক্কো ও তিউনিসিয়া। দুজন ব্রিটিশও রয়েছে এ তালিকায়।

ডিসেম্বর ২০১৫-নভেম্বর ২০১৬ মেয়াদে আইএসের আত্মঘাতী হামলার তিন ভাগের দুই ভাগই হয়েছে ইরাকে। জঙ্গিদের নিজস্ব সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরাকের মসুলে সরকারি বাহিনীর অভিযানের প্রথম সপ্তাহে আইএস ৫৮টি আত্মঘাতী হামলা করেছে। পরের সপ্তাহগুলোতে হামলার হার কমতে কমতে ১৯টিতে গিয়ে ঠেকে।

উইন্টারের এসব তথ্যের উৎস হলো আইএসের মুখপত্র সংবাদমাধ্যম আমাক এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। যেমন—দৈনিক আল-বাইয়ান রেডিও বুলেটিন, সাপ্তাহিক আল-নাবা, বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্র ও ছবি। জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ১৪টি প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এগুলোতে হামলার খুঁটিনাটি বিবরণ ছিল, যা তাঁকে স্পষ্ট ধারণা পেতে সহায়তা করেছে। সূত্র : গার্ডিয়ান।


মন্তব্য