kalerkantho


মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি

তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জাতিসংঘের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানামারে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তের জন্য জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন সংস্থার এক কর্মকর্তা। মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জাতিসংঘ দূত ইয়াংহি লি গত বৃহস্পতিবার সংস্থার প্রতি এ আহ্বান জানান।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন। সেখানেই মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেন ইয়াংহি লি। ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি তিনি মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি তদন্তের জন্য শক্তিশালী তদন্ত কমিশন (সিওআই) গঠনের আবেদন জানান।

মানবাধিকার পরিষদের উদ্দেশে ইয়াংহি বলেন, ‘মিয়ানমারে শাসনব্যবস্থায়, আইনে এবং দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যমান পদ্ধতিগত, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের ব্যাপারে এবং একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিনের অত্যাচারের ব্যাপারে তদন্তের জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক। ’ কেবল রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক নিপীড়নের বিষয়টি নয়, ২০১২ ও ২০১৪ সালের সাম্প্রদায়িক সহিসংতার বিষয়টিও তদন্তের আওতাভুক্ত করা উচিত বলে ইয়াংহি মন্তব্য করেন।

মিয়ামনারে রোহিঙ্গারা কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করলেও তাদের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি দেয় না দেশটি। ‘রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী’ দাবি করে দেশটি কখনোই তাদের নাগরিকত্ব দেয়নি। ন্যূনতম মৌলিক সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সরকারপক্ষের নির্যাতন তাদের নিত্যসঙ্গী।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চরমে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। সর্বশেষ গত বছর রাখাইন সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর সরকারি বাহিনী গোটা এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, গণধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালাও-পোড়াও ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শুরু করে। সংবাদমাধ্যমগুলোর অব্যাহত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার এগুলো ‘ভুয়া এবং অতিরঞ্জিত খবর’ অ্যাখ্যা দেয় এবং সেনাবাহিনীর অত্যাচারের খবর অস্বীকার করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের তদন্ত প্রতিবেদনের পর এবার স্বয়ং জাতিসংঘ দূত এ বিষয়ে প্রতিবেদন উত্থাপন করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠনের আবেদন জানান। মানবাধিকার কমিশনের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার আগেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য