kalerkantho


সেশনসের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সেশনসের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই

ওয়াশিংটনে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি

পদত্যাগে বাধ্য হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে বাঁচাতে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের বিষয়েও তাঁকে ঠিক একই অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ‘জেফ সেশনস একজন সৎ মানুষ’। প্রেসিডেন্ট দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। এর আগে ফ্লিনের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেও তাঁর পদত্যাগ ঠেকাতে পারেননি ট্রাম্প।

সেশনসের রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গে কিসলিয়াকের সঙ্গে গত বছর দুবার বৈঠক করেন। তবে গত জানুয়ারিতে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি বিষয়টি স্বীকার করেননি। মূলত সেশনসের বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে বিরোধী শিবির তাঁর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছে।

তবে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শুধু ফ্লিন বা সেশনসই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আরো অনেক কর্মকর্তাই সাক্ষাৎ করেছেন। এ তালিকায় আছেন ট্রাম্পের জামাতা জারাড কুশনারও। গত বৃহস্পতিবার থেকে কুশনারের বিষয়টি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

নিজের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘সেশনস হয়তো আরো স্পষ্ট করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কোনো অভিসন্ধি নিয়ে এটি করেননি। ’ ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অযথাই ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর অভিযোগও করেন তিনি।

তোপের মুখে সেশনস এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের একটি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা থেকেই বের হয়ে আসতে পারবেন তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কথিত যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। সেশনসের অধীনেই ওই সংস্থাটি। ফলে তিনি পদে বহাল থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটদের।

সেশনসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গত বছর সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি (সেশনস) রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। দায়িত্বের অংশ হিসেবেই এ বৈঠক হয়। তাই এই বৈঠক কোনো অনিয়ম নয়। সেশনসের শপথের লঙ্ঘনও নয়।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন সেশনস। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সাবেক এই সিনেটর গত ৮  ফেব্রুয়ারি সিনেটের ভোটাভুটিতে কোনো মতে উতরে অ্যাটর্নি জেনারেল হন। মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁর অতীতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আছে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সেশনস যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফলে সেশনসের পদত্যাগ দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক নেতা ন্যান্সি পেলোসি।

ডেমোক্রেটিক পার্টির এ অভিযোগের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে হেরেছেন আর এখন তাঁরা বাস্তবতার ওপরও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ’ ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযান নিয়ে অভিযোগ আছে যে তার প্রচার শিবিরের একটি দল রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মস্কো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অবশ্য তাঁর প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁর জামাতা এবং উপদেষ্টা জারাড কুশনারও এর মধ্যে রয়েছেন। তিনি এবং ফ্লিন গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প টাওয়ারে রুশ রাষ্ট্রদূত কিসলিয়াকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময়েও রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে প্রবল আলোচনা চলছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘১০ মিনিট স্থায়ী ওই বৈঠকটি ছিল একেবারেই প্রাথমিক পরিচিতিমূলক। ’ সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য