kalerkantho


১০ দিনে ২৮ হাজার জন মসুল ছেড়েছে

জীবন নিয়ে পালাতে পারছে না সবাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তীব্র খিদে, সেই সঙ্গে সারাক্ষণ মৃত্যুভয়—সব পেছনে ফেলে সামনে এগোতে গিয়ে আরেক বিভীষিকার মুখে পড়ছে ইরাকের মসুলের বাসিন্দারা। কারণ দলে দলে পালাতে গিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের গুলিতে কোনো না কোনো স্বজনকে হারাচ্ছে তারা। নিহত স্বজনদের পেছনে ফেলেই এগোতে বাধ্য হচ্ছে অন্যরা।

আইএসের দখল থেকে মসুল পুনরুদ্ধারে ইরাকের সরকারি বাহিনীর অভিযান বর্তমানে শহরটির পশ্চিমে জোরদার করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার মানুষ ওই এলাকা ছেড়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসী কল্যাণমূলক আন্তর্জাতিক সংগঠন আইওএম।

আরো অনেকের সঙ্গে মসুলের মামুন এলাকা ছেড়ে আসা মায়সুন নামের ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এক ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ‘ওত পেতে থাকা জঙ্গিরা লোকটার মাথায় গুলি করল। তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে ঘিরে কাঁদছিল। তারা কিছুতেই লাশের পাশ থেকে সরতে চাচ্ছিল না। আমরা জোর করে তাদের টেনে এনেছি। কারণ ওখানে থাকাটা খুবই বিপজ্জনক। ’

ইরাকের কাউন্টার টেররিজম সার্ভিসের স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল ঘানি আল-আসাদি জানান, পশ্চিম মসুল থেকে পালাতে গিয়ে গত ১০ দিনে প্রায় ১৫ জন সাধারণ মানুষ জঙ্গিদের গুলিতে মারা গেছে।

আহত হয়েছে আরো অনেকে।

নিরাপদে পালিয়ে আসার পর হামাম আল-আলিল শিবিরে খাবার সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ২৩ বছর বয়সী সাফানা জানালেন নিজের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আসার পথে দেখলাম, রাস্তায় লাশ পড়ে আছে, শিশুদের লাশ, টুকরো লাশ। ’ জঙ্গিদের হুমকিতে তাঁরা তড়িঘড়ি করে এলাকা ছাড়েন বলে জানান সাফানা। একই এলাকা ছেড়ে আসা সন্তানহারা এক দুর্ভাগা মা কেবলই বুক চাপড়াচ্ছেন। ১০ বছরের মেয়েকে চোখের সামনে মর্টার হামলায় মরতে দেখার যন্ত্রণা তিনি কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছেন না।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য