kalerkantho


গাজা যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন

‘হামাসের সুড়ঙ্গের কথা জেনেও প্রস্তুতি ছিল না নেতানিয়াহুর’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘হামাসের সুড়ঙ্গের কথা জেনেও প্রস্তুতি ছিল না নেতানিয়াহুর’

গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল হামাস ইসরায়েলের ওপর হামলার জন্য যে সুড়ঙ্গের ব্যবহার করেছে, সে সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা যথেষ্ট সতর্ক হননি—রাষ্ট্রীয় এক অনুসন্ধান শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

দুই বছরের তদন্ত শেষে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন যথেষ্ট প্রস্তুতি না রাখার অভিযোগ আনা হলেও অভিযুক্তরা নিজেদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ৫০ দিনের গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের তরফে ৭৪ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৬৭ জন ছিল সেনা সদস্য। এর মধ্যে পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হয় ওই বছর ২৯ জুলাই। ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুত্জ এলাকায় সুড়ঙ্গ থেকে আচমকা বেরিয়ে আসা হামাস যোদ্ধাদের হামলায় তারা নিহত হয়। ৫০ দিনব্যাপী ওই যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ২৫১ জনে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় হিসাব অধ্যক্ষ জোসেফ শাপিরা তদন্ত প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘ক্ষমতাধর রাজনীতিকরা, ক্ষমতাধর সেনা কর্মকর্তারা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সুড়ঙ্গের হুমকির বিষয়টা জানত, এমনকি এটাকে তারা কৌশলগত অ্যাখ্যা দিয়েছিল। অথচ সেই হুমকি মুকাবিলায় তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ওই অ্যাখ্যার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। ’ প্রতিবেদনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশেহ জালুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলা হয়, সুড়ঙ্গ সম্পর্কে তাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল, সেগুলোর সবটা তারা নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যদের কাছে তুলে ধরেননি।

যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ও দরকারি তথ্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনে এ দুজন ব্যর্থ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, সুড়ঙ্গ হুমকির বিষয়টি নিয়ে ১৩ বার মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের সফলতার দাবিও তিনি করেছেন। তাঁর মতে, সেবার হামাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নিষ্ঠুর হামলা হয়েছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জালুন ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘(গাজা) যুদ্ধের সময় যারা অপ্রত্যাশিতভাবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদ রাজনৈতিক খেলায় মেতেছিল, তারা এবারও সেই খেলা চালিয়ে যাবে। ’ এ ছাড়া গত মঙ্গলবার ইউটিউবে পোস্ট করা এ ভিডিওবার্তায় তিনি ওই তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘রাজনৈতিক’ অ্যাখ্যা দেন এবং একটা জটিল বিষয় সম্পর্কে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। বিরোধীদলীয় প্রধান আইজ্যাক হারগোজ এ দাবি জানিয়ে বলেন, এ প্রতিবেদন প্রত্যেক ইসরায়েলির মনে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা তৈরি করবে। প্রতিবেদনটি ‘চরম উদ্বেগজনক’ এবং নেতানিয়াহু জনগণকে বিপথগামী করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ইয়াইর লাপিদ।

যে যা-ই বলুক, এ তদন্ত প্রতিবেদন নেতানিয়াহুর ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য