kalerkantho


কংগ্রেসে ‘প্রেসিডেন্টসুলভ’ ভাষণ ট্রাম্পের!

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কংগ্রেসে ‘প্রেসিডেন্টসুলভ’ ভাষণ ট্রাম্পের!

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণের সময় সাদা পোশাকে ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী সদস্যদের প্রতিক্রিয়া। ছবি : এএফপি

ভেতরে-বাইরে তীব্র চাপ, সমালোচনা-নিন্দা আর দ্রুত পড়তে থাকা জনপ্রিয়তা—এই তিনের মধ্যে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে তাঁর ভাষণ দিয়েছেন। তবে গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে উগ্র বা আগ্রাসী নয় বরং কোমল এবং ক্ষেত্রবিশেষে মধুর কণ্ঠও শোনা যায় তাঁর।

‘আমেরিকান তেজস্বিতা পুনরুদ্ধারের’ আশাবাদ ঝরে পড়ে তার কণ্ঠ থেকে। জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি, সঙ্গে জুড়ে দেন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও; যার মধ্য থেকে অভিবাসী ইস্যুটিও বাদ পড়েনি। জানিয়েছেন, বিশ্বের মুসলমান বন্ধুদের নিয়ে কাজ করবেন তিনি।

এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের এই ভাষণে নানা বিষয় ছুঁয়ে যান ট্রাম্প। তবে এই ভাষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তাঁর শব্দচয়ন আর বলার ভঙ্গি। একবারও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ধমকে বা চিৎকার করে ওঠেননি তিনি। বরং পুরো ভাষণে তাঁকে শান্ত এবং অনেক বেশি সংযত বলেই মনে হয়েছে। ভাষণে তিনি ভাঙন নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আমেরিকার পুরনো ঐহিত্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আশাবাদের এক নতুন ঢেউ অসম্ভব সব স্বপ্নকেও দৃঢ়ভাবে আমাদের মুঠোবন্দি করতে শুরু করেছে।

’ তিনি ইহুদিদের কবরস্থানগুলোতে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনায় এবং কানসাসে জাতিগত ঘৃণায় এক ভারতীয়কে গুলি করে হত্যার নিন্দা জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যা ঘৃণা ও অনৈতিকতার নিন্দায় একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। ’ বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘটনাবহুল শুরুর পর তলানিতে নেমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনাই তাঁর এ ভাষণের লক্ষ্য ছিল।

ট্রাম্প ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্যচুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় অভিবাসননীতি নিয়েও কথা বলেন তিনি, ‘অভিবাসননীতির বাস্তব ও অনুকূল সংস্কার সম্ভব। আমাদের অভিবাসন আইনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা মজুরি বাড়াতে, বেকারদের সাহায্য করতে, শত শত কোটি ডলার বাঁচাতে এবং আমাদের সমাজকে সবার জন্য নিরাপদ করে তুলতে পারব। ’

এ ছাড়া অভিবাসী নিষিদ্ধের দেশ থেকে ইরাকের নাম প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। চার শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে এ নিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল ট্রাম্পের ওপর। মূলত আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকের ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই সে দেশের নাগরিকদের ওপর থেকে আমেরিকায় ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সরানোর অনুরোধ করা হয় হোয়াইট হাউসকে।

তবে সার্বিকভাবে নতুন অভিবাসননীতি নিয়ে আপাতত ধীরে চলার নীতিই নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। কংগ্রেসের ভাষণে ট্রাম্প জানান, নতুন নীতিতে আমেরিকায় ঢুকতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের মেধা ও দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। এতে আমেরিকায় অদক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমবে। ট্রাম্পের মতে, অভিবাসননীতি নিয়ে রিপালিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই পক্ষ ‘সমঝোতা’য় এলে তবেই এই সংস্কার সম্ভব হবে।

বিষয়ের দিক থেকে বিবেচনা করে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ ভাষণে একেবারে অভিনব কিছুই ছিল না। বরং ট্রাম্পের এ ভাষণটিও গতানুগতিকতার পর্যায়েই পড়ে। কিন্তু ট্রাম্পের যুগে সাধারণ বিষয়গুলোই অবিশ্বাস্য হয় ওঠে, সে কারণেই গত মঙ্গলবার রাতের আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণটি ছিল ব্যতিক্রম। ট্রাম্পের ভাষণে নিরাপত্তা বাড়ানোর, অবৈধ অভিবাসীদের নিন্দা, আমেরিকানদের কাজ ও চাকরি দিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করার প্রতিশ্রুতি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তাদের অংশের চাঁদা ঠিকভাবে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার কথাও বলা হয়। তবে কোনো বিষয়ে কথা বলার সময়ই ট্রাম্প উত্তেজিত হননি।


মন্তব্য