kalerkantho


পাকিস্তানে হত্যাকারীর ‘মাজার’ ঘিরে বিতর্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাকিস্তানের লাল শাহবাজ কালান্দারের মাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পর পর জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে সরকার যখন নতুন করে জঙ্গি নির্মূল অভিযানের কথা বলছে, তখন একই সঙ্গে কথা উঠেছে মৌলবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বড় হওয়া একটি ‘মাজার’ নিয়ে। আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশে গত হওয়া মুমতাজ কাদরির সম্মানে গড়ে ওঠা মাজারটির পরিসর দিন দিন বাড়তে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানিদের নৈতিকতাবোধ নিয়েও।

বিতর্কিত ধর্ম অবমাননা নিরোধ আইনের সংস্কারের পক্ষে কথা বলায় উদারপন্থী রাজনীতিক পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে ২০১১ সালে খুন করেন মুমতাজ কাদির। আদালতের রায় অনুযায়ী গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রাজধানী ইসলামাবাদে কাদরির কবরকে ঘিরে এরই মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে মাজার। প্রতিদিনই সেখানে ভক্তদের আনাগোনা চলছে। এর ওপর গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী স্মরণ উৎসব। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরেই এই আয়োজন। ছেলের স্মরণ উৎসবের তদারকিতে ব্যস্ত বাবা মালিক বশির আওয়ান বলেন, ‘চার লাখ লোক হতে পারে। ’ মাজারের পাশে মাদরাসা নির্মাণের তোড়জোড়ও চলছে বলে জানান বশির। এরই মধ্যে সমর্থকরা অর্থ দিতেও শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের দায়ে আদালতের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যাঁকে মারা হয়েছে, ঘটা করে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজন এবং মাজারের পাশে মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগ সত্ত্বেও সরকারের নির্বিকার ভাব বিশ্লেষকদের বিস্মিত করছে। কাদরির মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণকারী সরকারি আইনজীবী সাইফ-উল-মুলুক মনে করেন, ‘কাদরির সমর্থকরা যে শক্তিশালী, ব্যাপারটা সে রকম নয়। দুর্বলতা রয়েছে সরকারের সদিচ্ছায়। এটা হতাশাব্যঞ্জক। ’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানে সংবিধান অনুসারে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যাঁকে সন্ত্রাসী অ্যাখ্যা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন, জেনেশুনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন—একটা সমাজ নৈতিকভাবে কতটা নীচতা প্রদর্শন করতে পারে?’

সরকারের এ নীরব ভূমিকার কারণ সম্পর্কে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের জিশান সালাহউদ্দিনের অভিমত, ‘সরকার এ মাজারের বিরুদ্ধে যদি একটা পদক্ষেপও নেয়, তবে গোলযোগ সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ’

একজন হত্যাকারীর মাজার জনমনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে সম্পর্কে মৌলবাদী ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আরিফ জামাল বলেন, ‘এ ধরনের একটা মাজারের অস্তিত্ব একজন শান্তিপূর্ণ পাকিস্তানির মনেও এ বিশ্বাস তৈরি করবে যে সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডটা আদতে ভালোর জন্যই ঘটেছিল। এটাই হলো মৌলবাদের প্রথম ধাপ। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য