kalerkantho


টাইগ্রিস নদীর একটি সেতুর দখল নিয়েছে ইরাকি বাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



টাইগ্রিস নদীর একটি সেতুর দখল নিয়েছে ইরাকি বাহিনী

টাইগ্রিস নদীর দুই তীরের মধ্যে সেনা চলাচলের জন্য ইরাকি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি ভাসমান সেতু তৈরি। এ লক্ষ্যে আইএসের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর গতকাল তারা নদীর ওপর আগে থেকেই ধ্বংস হওয়া একটা সেতুর দখল নিয়েছে। ধ্বংসাবশেষ কাজে লাগিয়ে এখানে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করতে পারলে ইরাকি বাহিনীর পক্ষে প্রয়োজনীয় যুদ্ধসরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিসপত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নেওয়া সহজ হবে। পশ্চিম মসুল নিজেদের আয়ত্তে ধরে রাখতে আনুমানিক দুই হাজার আইএস সদস্য সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

সাড়ে সাত লাখ বাসিন্দার পশ্চিম মসুল উদ্ধারের লড়াই এক সপ্তাহ আগে শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। চারপাশ থেকে ঘিরে শহরে প্রবেশের পর এখন তাদের জোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের র‌্যাপিড রেসপন্স ইউনিটের কর্নেল ফালাহ আল ওয়াবডান বলেন, ‘সেতুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটা অভিযান পরিচালনা করেছি। আইএসের তৈরি করা বিশাল এক পরিখা আমাদের পার হতে হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে মাইন পুঁতে রেখেছিল। আমাদের বাহিনীর হাতে ব্যাপক সংখ্যক আইএস সদস্য নিহত হয়েছে। শুধু রবিবারই ৪৪ জন আইএস সদস্য নিহত হয়েছে।

টাইগ্রিস নদীর ওপর থাকা পাঁচ সেতুর সবগুলোই আইএস সদস্যরা ধ্বংস করে দিয়েছে। এক মাস আগে আইএসের হাত থেকে উদ্ধার করা পূর্ব তীরের সঙ্গে এখন পশ্চিম তীরের যোগাযোগ রক্ষা করতে একটি সেতুর ধ্বংসাবশেষকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান সেতু তৈরির কাজ করবে ইরাকি বাহিনী। এ সম্পর্কে ওয়াবডান বলেন, ‘আমাদের জন্য সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতু তৈরি করতে পারলে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস ও অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে সহজে নিতে পারব। ’

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এর আগে ইরাকি বাহিনী ভাসমান সেতু তৈরি করে ব্যবহার করেছে। রামাদি উদ্ধারে এক বছর আগে ইউফ্রেটিস নদীর ওপর তারা ভাসমান সেতু তৈরি করেছিল।

র‌্যাপিড রেসপন্স ইউনিট রবিবারই সেতুর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু আত্মঘাতী গাড়ি বোমা, রাস্তার পাশে পোঁতা বোমা এবং ড্রোন মোকাবিলা করতে হওয়ায় এই দিন তারা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

মসুলের পশ্চিমাংশ পূর্বাংশের তুলনায় একটু ছোটো। তবে এটি অনেক বেশি ঘনবসতি এলাকা। আইএস এখানে তাদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের বড় একটা অংশ আইএসের ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। তবে এরই মধ্যে হাজার হাজার নাগরিক পালাতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। নাগরিকদের জীবন রক্ষার্থে অভিযানে সরকারি বাহিনীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে নরওয়ের রিফিউজি কাউন্সিলের মুখপাত্র কার্ল স্কিমব্রি বলেন, ‘পশ্চিম মসুল উদ্ধারের লড়াইটা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। আমরা এ অঞ্চলের আট লাখ নাগরিক নিয়ে উদ্বিগ্ন আছি। যাদের  বেশির ভাগ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আটকে আছে। আমরা জানতে পেরেছি পশ্চিম মসুলের ভেতরের মানুষ পাখির মাংস খেয়ে দিন পার করছে। বেশির ভাগ লোকই দিনে একবার খাবার পাচ্ছে। খাবারের মূল্য এত বেশি বেড়ে গেছে যে তাদের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ’

সূত্র: এএফপি।


মন্তব্য