kalerkantho


রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যেই মাথা তোলে কসোভো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যেই মাথা তোলে কসোভো

সার্বদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে কসোভোর আলবেনীয়রা আশ্রয়ের খোঁজে ছোটে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। ছবি : ফাইল

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভো ২০০৮ সালে সার্বিয়ার কাছ থেকে একতরফাভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই তাদের স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু দেশ।

তবে রাশিয়ার দৃঢ় সমর্থনের কারণে সার্বিয়া আজও দেশটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলাদেশ গতকাল দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৯৯০ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে সার্বিয়ার জন্ম হয়। শুরু থেকেই কসোভো আলাদা হয়ে যাওয়ার আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন থামাতে ওই অঞ্চলের আলবেনীয়দের ওপর নির্মম অভিযান চালায় সার্বিয়া। ১৯৯৯ সালে ন্যাটো সামরিক অভিযান শুরু করার পর সার্বিয়া তাদের তত্পরতা বন্ধে বাধ্য হয়।

২০০৮ সাল পর্যন্ত অঞ্চলটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পুরো সময়টি জাতিসংঘ কসোভোতে বসবাসকারী আলবেনীয় ও সার্বদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। তবে তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

কসোভোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো—

প্রথম শতাব্দী (খিস্টাব্দ) : রোমানরা দখলে নেয় অঞ্চলটি। ওই সময় এ এলাকায় বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠীকে বলা হতো দারদানি। এরা ইলিরিয়ান বা ট্রেসিয়ান বংশোদ্ভূত হতে পারে বলে মনে করা হয়।

ষষ্ঠ শতাব্দী : স্লাভরা ওই অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে। রোমানদের নিয়ন্ত্রণ থেকে এরা বের হয়ে আসায় সেখানে সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়।

দ্বাদশ শতাব্দী : কসোভো সার্বিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় কসোভো অঞ্চলে বহু গির্জা নির্মিত হয়।

১৩৮৯ : বিখ্যাত কসোভো যুদ্ধের মাধ্যমে এখানে ওসমানিয়া শাসনের গোড়াপত্তন হয়, যা ৫০০ বছর ধরে চলে। এই দীর্ঘ সময়ে কসোভোতে মূলত মুসলিম ও আলবেনীয়দের সংখ্যাধিক্য দেখা যায়।

১৯১২ : বলকান যুদ্ধ। সার্বিয়া তুরস্কের কাছ থেকে কসোভোর নিয়ন্ত্রণ দখল করে।

১৯৪৬ : যুগোস্লাভ ফেডারেশনে কসোভোর অন্তর্ভুক্তি।

১৯৭৪ : কসোভোকে স্বায়ত্তশাসিত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুগোস্লাভিয়ার সংবিধান।

১৯৯০ : যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ কসোভোর স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে প্রদেশটিকে সার্বিয়ার প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আলবেনীয়রা তীব্র বিক্ষোভ শুরু করে।

১৯৯১ : যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়া শুরু। কসোভো স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করলেও ব্যর্থ হয়। দমন অভিযান শুরু করে সার্বিয়া।

১৯৯৬ : বিদ্রোহী কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএনএ) জোরদার সশস্ত্র তত্পরতা শুরু। একই সঙ্গে সার্বিয়ার দমন অভিযানও অব্যাহত।

১৯৯৯ : কসোভোর সহিংসতা বন্ধে আন্তজার্তিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ন্যাটো সার্ব লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা শুরু করে। জবাবে কসোভোর আলবেনীয়দের জাতিগতভাবে নির্মূল শুরু করে সার্বিয়া ও যুগোস্লাভ। এরপর এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সার্বিয়া ও যুগোস্লাভ কসোভো থেকে সেনা প্রত্যাহর এবং জাতিসংঘের প্রশাসন কসোভোর দায়িত্ব নেয়।

২০০৮ : কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণা।

২০১৩ : সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যে চুক্তি সই। এই চুক্ততে কসোভোতে বসবাসকারী সার্ব সংখ্যাগুরু এলাকাগুলোকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কসোভোর রাজধানীর নাম প্রিস্টিনা। জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। আয়তন ১০ হাজার ৮৮৭ বর্গকিলোমিটার। প্রধান ভাষা আলবেনীয় ও সার্বীয়; প্রধান ধর্ম ইসলাম ও খ্রিস্টান। বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম হাশিম থাসি।


মন্তব্য