kalerkantho


ট্রাম্পকে নিয়ে শঙ্কায় নৌশক্তি বাড়াচ্ছে চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আসন্ন প্রতিরক্ষা বাজেটে চীন সম্ভবত নৌবাহিনীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেবে। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে বাজেটে তাত্পর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে দেশটি।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী নিজেদের বাড়াতেও পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপকভাবে এর প্রমাণ রেখেছে পেইচিং। নিজেদের প্রথম বিমানবাহী রণতরী স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানের সমুদ্রসীমা টহল দিয়ে এসেছে। এ ছাড়া চীনের নতুন যুদ্ধজাহাজগুলো সাগরে নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ টহল যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়েছে চীন। চীনের নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক তত্পরতা সম্পর্কে চীনে দায়িত্বরত এশিয়ার একটি দেশের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘সমস্যার মধ্যে চীনের জন্য এটা একটা সুযোগ। যেহেতু ট্রাম্পের কাজের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই সে কারণে চীন একটা আতঙ্কে রয়েছে এবং এর জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছে।

নৌবাহিনীর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দের পরিকল্পনা থাকলেও কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হবে তা প্রকাশ করেনি পেইচিং। তবে প্রতিরক্ষা খাতে ২০১৬ সালে ১৩৯ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা জানিয়েছে। চীন প্রায় প্রতিবছর প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ব্যাপক আকারে বাড়ালেও গত বছর বিস্ময়করভাবে কম বরাদ্দ বাড়িয়েছিল। প্রতিবছরই তাদের বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিমাণ দুই অঙ্কে থাকলেও গত বছর তা ছিল এক অঙ্কের ঘরে। প্রতিরক্ষা বাজেট সম্পর্কে সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের মিলিটারি ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো এবং কো-অর্ডিনেটর রিচার্ড বিটজিনগার বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অর্থ ব্যয়ে নিশ্চিতভাবে চীনা নৌবাহিনী লাভবান হয়েছে। আমরা জানি না নৌবাহিনীর জন্য তারা কত খরচ করে থাকে, কিন্তু তাদের শিপইয়ার্ড থেকে যা বের হয়ে আসছে তার পরিমাণ ও মান যা দেখা যাচ্ছে তা বিস্ময়কর। ’

একটা সময় ছিল উপকূলে টহলের মধ্যেই চীনের নৌবাহিনীর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সময়ে নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করা হয়। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, করভেটস ও গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেটসহ ২০১৬ সালে ১৮টি জাহাজ নামানো হয়েছে। এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে কোনো ঘোষণা ছাড়াই আরো একটি জাহাজ বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের  ১০টি বিমানবাহী রণতরী বিপরীতে চীনের রয়েছে মাত্র একটি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পার্থক্যকে তুলনা করতে গিয়ে সাবেক মেজর জেনারেল বর্তমানে সরকার পরিচালিত চায়না আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড ডিসআর্মামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র পরামর্শক ঝু গুয়াংগু বলেন, ‘চীন সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য নিয়ে আতঙ্কিত। এটা অনেকটা ম্যারাথনের মতো এবং আমরা শুধু পিছিয়ে পড়ছি। এখন আমাদের দ্রুত দৌড়াতে হবে। ’

এদিকে ট্রাম্পও বসে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২৯০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য