kalerkantho


অনাহারে দিন কাটে ফুলন দেবীর মা-বোনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অনাহারে প্রায় মৃত্যুশয্যায় ভারতের ‘ব্যান্ডিট কুইন’খ্যাত ফুলন দেবীর মা। বেশির ভাগ দিনই ঠিকমতো খাওয়া জোটে না ৭০ বছরের মুলা দেবীর। এক সময় যে দস্যুরানির ত্রাসে কাঁপত চম্বল, তাঁর মা ও বোনের গোটা মাস এখন কাটে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

ভারতের বুন্দেলখণ্ডের জালাউন জেলার শেখপুর গুধা গ্রামে ছেঁড়া কাপড় আর প্লাস্টিকে মোড়া ঝুপড়িটা দেখে কারোর পক্ষেই বিশ্বাস করা সম্ভব নয় যে এটাই এক সময়ের সংসদ সদস্যের মা ও বোনের মাথা গোঁজার জায়গা। আশির দশকে যখন চম্বল কাঁপাতেন ফুলন, তখন বাড়িতে লোকজনের যাতায়াত লেগেই থাকত। রাস্তায় বেরোলে সবাই মাথা নিচু করে সম্মান দেখাতেন মুলা দেবীকে। টাকা-পয়সার কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু সে সবই এখন অতীত। বর্তমানে দিনমজুরি করে কোনো রকমে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটে তাঁদের।

শেখপুর গুধা গ্রামের বাইরে তিন বিঘা জমি ছিল মুলা দেবীর। এই জমি থেকেই ফুলন নামের ত্রাসের শুরু।

উঁচুজাতের লোকদের কাছে তীব্র অত্যাচারের শিকার হয়ে হাতে বন্দুক তুলে নিয়েছিলেন ফুলন। ১৯৮১ সালে বেহমাইয়ে তাঁকে গণধর্ষণে যুক্ত ২২ জন ঠাকুরকে খুন করেছিলেন ফুলন। ’৮৩ সালে আত্মসমর্পণ করেন ফুলন দেবী। খুন, ডাকাতি মিলিয়ে তাঁর ওপর মোট ৪৮টি মামলা ছিল। মুলায়ম সিং সরকার অবশ্য সবই পরে তুলে নেয়। ১৯৯৪ সালে ছাড়া পেয়ে তাঁর দুই বছর পর সমাজবাদী পার্টির হয়ে সংসদে পা রাখেন তিনি। ১৯৯৯ সালেও লোকসভায় নির্বাচিত হন।

কিন্তু নিজের মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০০১ সালের ২৫ জুলাই দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের বাইরে গুলিতে খুন হন ফুলন। সূত্র : এই সময়।


মন্তব্য