kalerkantho


দুতার্তেবিরোধী বড় বিক্ষোভ নামলেন সাবেক প্রেসিডেন্টও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে বিক্ষুব্ধ মানুষ। একদিকে চলছে দুতার্তের সমালোচকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারাভিযান। অন্যদিকে চলছে দুতার্তেবিরোধী প্রতিবাদ। গতকাল শনিবার রাজধানী ম্যানিলার রাস্তায় এই বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে ছিলেন দুতার্তের পূর্বসূরি বেনিনো একুইনো।

গতকাল সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে প্রায় এক হাজার দুতার্তেবিরোধী জড়ো হয়। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার নাট্যকার বোনিফাসিও ইলাগান। সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের আমলে দুই বছর কারাবন্দি রেখে তাঁর ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। ১৯৭০ দশকে সামরিক আইন বলবৎ রেখে মার্কোসের দেশ পরিচালনার সময় তিনি এ নির্যাতনের শিকার হন। ওই সময় নির্যাতিত ইলাগান মনে করেন, দুতার্তের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টাকে গুরুতরভাবে নিয়েছি। ফ্যাসিবাদের উত্থান সম্পর্কে আমরা মানুষকে সতর্ক করছি।

এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার প্রতিবাদী মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসা সাবেক প্রেসিডেন্ট একুইনো তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমরা যেখানে সাহায্যের প্রস্তাব দিচ্ছি, সেখানে কী করে এই আমরাই অস্থিতিশীলতার সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারি?’ একুইনোর সাবেক সরকারের সঙ্গে যারা সহায়তা করছে, তারা সবাই বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে—প্রেসিডেন্ট দুতার্তের মুখপাত্রের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দুতার্তেবিরোধীদের পাশাপাশি গতকাল রাস্তায় নামে তাঁর পক্ষের লোকজনও। দুতার্তেপন্থীরা বিপক্ষের দিকে কটূক্তি ছুড়ে দেওয়া এবং তাদের দিকে ইঙ্গিত করে ঘুষি বাগিয়ে ধরায় উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়। পুলিশের জলকামানে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

দুতার্তেবিরোধী এবং একই সঙ্গে মার্কোসবিরোধী আরেকটি দল গতকাল বীরদের জন্য নির্ধারিত সমাধিক্ষেত্রের কাছে প্রতিবাদ জানায়। দুতার্তের অনুমতি সাপেক্ষে গত বছর মার্কোসের দেহাবশেষ সেখানেই পুনরায় সমাধিস্থ করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মার্কোসের মৃত্যু হলে সে দেশেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। তৎকালীন ফিলিপিনো সরকারের বিরোধিতার কারণে মার্কোসের পরিবার তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে সমাধিস্থ করতে বাধ্য হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দুতার্তে অবশ্য মনে করেন, ফিলিপাইনের সেরা প্রেসিডেন্টদের একজন ছিলেন মার্কোস। তাই ম্যানিলার ‘সিমেট্রি ফর হিরোস’ এ মার্কোসকে জায়গা দেন তিনি। এর প্রতিবাদে একদল মানুষ ‘ওকে তুলে আন’ স্লোগান দিতে দিতে ওই সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগোতে থাকে। তবে দেড় শ জনের ওই দলটিকে সমাধিক্ষেত্রে ঢোকার আগেই থামিয়ে দেয় দাঙ্গা পুলিশ।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়ে গত বছর জুনে ক্ষমতায় বসেন দুতার্তে। তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত দুই হাজার ৫৫৫ জনকে হত্যার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ঘটে গেছে আরো প্রায় চার হাজার হত্যাকাণ্ড। দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করায় গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হন সাবেক বিচারমন্ত্রী ও বর্তমানে অন্যতম শীর্ষ সিনেটর লেইলা দে লিমা। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য