kalerkantho


জং নাম হত্যাকাণ্ড

মাত্র ৯০ ডলারে কাজ সেরেছে সেই নারী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাত্র ৯০ ডলারে কাজ সেরেছে সেই নারী

সিতি আইসিয়াহ

উত্তর কোরিয়ার কিম জং নাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার এক নারী দাবি করেছেন, টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি কৌতুক অনুষ্ঠান তৈরি করা হচ্ছে, এমন বিশ্বাসে মাত্র ৯০ ডলারের বিনিময়ে তিনি কাজটি করেছেন। গতকাল শনিবার এ নারীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি রাষ্ট্রদূত অ্যান্ড্রিনো এরউইন এ কথা জানান।

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সত্ভাই জং নাম গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুন হওয়ার পর দ্রুতই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের একজন হলেন ইন্দোনেশিয়ার সিতি আইসিয়াহ। বিশেষ অনুমতি নিয়ে গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা বলেন ইন্দোনেশীয় কূটনীতিক এরউইন। ২৫ বছর বয়সী সিতির বরাত দিয়ে তিনি জানান, কেউ একজন সিতিকে কাজটা করতে বলেছে। সিতির ধারণা ছিল, তাঁর হাতে যে তরল পদার্থ দেওয়া হয়েছিল, সেটা বেবি অয়েল জাতীয় কিছু একটা হবে। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী ওই পদার্থ জং নামের মুখে লাগিয়ে দিয়ে তিনি সটকে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে জং নাম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

তবে মালয়েশীয় তদন্ত পুলিশ গত শুক্রবার জানিয়েছে, জং নাম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পদার্থটি ছিল মারাত্মক বিষাক্ত ভিএক্স, যা দ্রুত মানুষের স্নায়ু অবশ করে দেয় এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে মৃত্যু ঘটায়। প্রাথমিক টক্সিকোলজি রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত জং নামের মুখে ও চোখে পাওয়া পদার্থটি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে, সেটি ছিল স্বাদ-গন্ধহীন ভিএক্স নামের বিষাক্ত পদার্থ।

রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভিএক্স উৎপাদন করা হয়, যা জাতিসংঘ গণবিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরীয় বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার হাতে পাঁচ হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ভিএক্সও রয়েছে। জং নাম হত্যাকাণ্ডের জন্য দক্ষিণের সরকার উত্তরকেই দায়ী করছে। কিন্তু ভিএক্স কী করে মালয়েশিয়ায় পৌঁছল, তা এখনো তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান খালিদ আবু বকর শুক্রবার জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, ‘রাসায়নিক পদার্থটি যদি খুব সামান্য পরিমাণে আনা হয়ে থাকে, তবে তা শনাক্ত করা আমাদের জন্য কঠিন। ’ একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক লেনদেনের আওতায় (ডিপ্লোমেটিক পাউচ) ভিএক্স আনা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কেননা কূটনীতিকদের লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত কোনো জিনিস কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাধারণত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না।

ভিএক্সের মতো এ রকম একটা বিধ্বংসী রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে জনসমাগমস্থলে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর খবর ছড়িয়ে পড়ায় মালয়েশীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী জুনাইদি তুয়ানকু জাফর বলেন, ‘এটা গণহারে অসুস্থতার কারণ হতে পারত অথবা অন্য কারো মৃত্যুর কারণ হতে পারত। ’ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি সামান্য পরিমাণ ভিএক্স নিঃশ্বাসের মাধ্যমে অথবা ত্বকে শোষিত হয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভিএক্সের কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, তা তারা জনগণকে নিশ্চিত করবে। এ জন্য তারা প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য