kalerkantho


ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নিয়ে উল্টো সুর ট্রাম্পের

‘উভয়ের খুশিতেই আমি খুশি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সংকট ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আবারও সুর পাল্টালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলছেন, এ দুই জাতির জন্য আলাদা রাষ্ট্র তিনি চান বটে, তবে উভয় পক্ষ যে সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবে, তিনি তাতেই খুশি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এ মন্তব্য করেন। কয়েক দিন আগেই তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কেবল দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই নয়, একরাষ্ট্রিক সমাধানও তাঁর চিন্তায় রয়েছে। ’

রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য, পরমাণু অস্ত্র, বিশ্ব অর্থনীতি প্রসঙ্গে তাঁর অভিমত এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর মনোভাব তুলে ধরেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গত বৃহস্পতিবার তিনি এ সাক্ষাত্কার দেন।

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান আমার পছন্দ। কিন্তু আমি আদতে সেটাই পছন্দ করব, যেটা উভয় পক্ষ পছন্দ করবে। ’ প্রায় অর্ধশতকের এ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ বহু বছর ধরে এটা নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে। কোনো কাজ হয়নি। আমি এই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানই পছন্দ করি।

কিন্তু উভয় পক্ষ যে সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবে, তাতেই আমার সন্তুষ্টি। ’

ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে মত দিলেও মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি অন্য কথা বলেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তাঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পাশাপাশি একটি রাষ্ট্রের কথাও বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দুই রাষ্ট্র ও এক রাষ্ট্র দুদিকেই আমার নজর আছে। কিন্তু উভয় পক্ষ যেটা বেছে নেবে, সেটাতেই আমি সম্মত। ’ মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকট নিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের অবস্থান বদল কেবল এ দুই জাতিকে নয়, পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

প্রেসিডেন্ট পদে অভিষেকের পর ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এদিন পরমাণু অস্ত্র নিয়েও কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে নিজের দেশকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। সেই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমিই প্রথম, যার স্বপ্ন হলো, হয় প্রত্যেকের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকবে নয়তো কারো কাছেই থাকবে না। কিন্তু আমরা কোনো দেশের চেয়েই পিছিয়ে থাকব না, এমনকি সেটা যদি কোনো বন্ধুসুলভ দেশও হয়। পরমাণু শক্তিতে আমরা কখনো কোনো দেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকব না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘কোনো দেশে পরমাণু অস্ত্র থাকবে না—স্বপ্নটা চমত্কার। কিন্তু দেশে দেশে যদি পরমাণু অস্ত্র থাকে, তবে আমরাই এর শীর্ষে থাকব। ’

পরমাণু শক্তি নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অলাভজনক সংস্থা আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনাব ট্রাম্পের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর তথ্যভাণ্ডার খুবই সীমিত এবং পরমাণু অস্ত্রের অস্বাভাবিক ভয়াবহতা সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি খুবই দুর্বল। ঠাণ্ডা যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ও পরমাণু শক্তি অর্জনে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় কেউ শীর্ষে থাকতে পারে না। ’

আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনে হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছয় হাজার ৮০০ ও রাশিয়ার হাতে সাত হাজার পরমাণু অস্ত্র আছে। শীর্ষ পরমাণু শক্তিধর এ দুটি দেশ ২০১০ সালে একটি চুক্তি করেছে, যাতে বলা হয়েছে, আগামী বছর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ চুক্তি অনুসারে পরবর্তী ১০ বছর উভয় দেশ অবশ্যই তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের সমতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখবে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।


মন্তব্য