kalerkantho


মসুলে ‘সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে’ সেনারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মসুলে ‘সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে’ সেনারা

ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের কাছ থেকে সিরিয়ার আল-বাব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা। শহরে তাদের টহল দেওয়ার ছবিটি বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি : এএফপি

ইরাকের মসুল শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলকৃত একটি এলাকায় ঢুকে পড়েছে সরকারি সেনারা। চার মাস আগে শুরু হওয়া আইএসবিরোধী অভিযানে গতকাল শুক্রবারই প্রথমবারের মতো সেখানে প্রবেশ করে দেশটির এলিট ফোর্সের সদস্যরা।

ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম মসুল দখলে সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে সেনাদের। মসুল ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। তাইগ্রিস নদী দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত এ শহরটি ২০১৪ সালে দখল করে নেয় আইএস। তাদের বিরুদ্ধে সেখানে চার মাসে আগে সরকারি সেনাদের অভিযান শুরু হয়। বিমান হামলার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোট। বেশ কয়েক দিন আগেই মসুলের পূর্বাঞ্চল দখলে নেয় সরকারি সেনারা। এরপর তারা অগ্রসর হয় দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। সেখানে গত বৃহস্পতিবার সেনারা আইএসের কাছ থেকে মসুল বিমানবন্দর ও একটি সামরিক ঘাঁটির দখল ছিনিয়ে নেয়। এখন তারা অগ্রসর হচ্ছে পশ্চিম মসুলের দিকে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেনারা মসুল শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলকৃত আল-মামুন এলাকায় ঢুকে পড়েছে।

ইরাকের ‘কাউন্টার টেররিজম সার্ভিস’-এর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সামি আল-আরিধি জানান, তাঁদের সদস্যরা পশ্চিম মসুলের একটি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা গাজলানি সামরিক ঘাঁটি দখল করেছি। ঢুকে পড়েছি আল-মামুন আবাসিক এলাকায়। ’

ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলের চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অভিযান হবে অনেক কঠিন। কারণ সেখানকার রাস্তাগুলো এত সরু যে বেশির ভাগ সামরিক যানই চলাচল করতে পারবে না। পশ্চিম মসুলে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল পদমর্যাদার এক সামরিক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা এবার শুরু হয়েছে। ’

মানবিক সহায়তা দেওয়া সংস্থাগুলো সতর্কতা দিয়েছে, পশ্চিম মসুলে অভিযান শুরু হলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে এরই মধ্যে অবশ্য মসুলের চারপাশে ব্যাপকহারে আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযান শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ খাদ্যাভাবের মুখে পড়বে।

তুলনামূলক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পশ্চিম মসুলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। গত মাসেই জাতিসংঘ বলেছে, মসুলে গত চার মাসে যত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, তাদের অর্ধেকই বেসামরিক।

বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির আশঙ্কার আরেকটি কারণ আইএস। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মসুলে আইএসের আত্মঘাতী হামলাকারীর সংখ্যা ফুরিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় তারা স্থানীয় লোকজনকে আত্মঘাতী হামলা চালাতে বাধ্য করছে। এমনকি ইরাকি সেনাদের ওপর হামলা চালাতে বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকে শিশুদের চালকের আসনে বসিয়ে দিচ্ছে তারা।

বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন, ইরাকের উপপরিচালক আরাম শাকারাম বলেন, গত বুধবারের পর থেকে পশ্চিম মসুল থেকে অল্পসংখ্যকই মানুষ পালাতে সক্ষম হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের ধারণা, সেখানে প্রায় আট লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য