kalerkantho


জং নাম হত্যার তদন্ত নিয়ে উত্তর কোরিয়া

অনৈতিক রাজনৈতিক খেলায় মেতেছে মালয়েশিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অনৈতিক রাজনৈতিক খেলায় মেতেছে মালয়েশিয়া

কিম জং নাম

কিম জং নাম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়া সরকারের বাগিবতণ্ডার মধ্যেই নতুন ভূমিকায় নেমেছে উত্তরের সংবাদমাধ্যম, সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াও। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জং নাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তরসংলগ্ন সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকারে জং নাম হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচার করছে।

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সত্ভাই জং নাম গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এত দিন চুপ থাকা উত্তর কোরীয় সংবাদমাধ্যম কেপিসিএন গতকাল প্রথমবারের এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রথম দিনই তাদের মন্তব্য হলো—জং নাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে মালয়েশিয়া অনৈতিক আচরণ করছে। উত্তর কোরিয়ার জুরিস্টস কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে তারা বলে, ‘মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে (জং নামের) মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা করেছে। তারা এখন মরদেহটি ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়া) হাতে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। ’ মরদেহ হস্তান্তরের আগে মালয়েশিয়া জং নামের পরিবারের কোনো একজন সদস্যের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে নেওয়ার যে দাবি তুলেছে, সেটা হাস্যকর অভিহিত করেছে জুরিস্টস কমিটি। কেপিসিএন বলে, ‘এতেই প্রমাণিত হয় যে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে রাজনৈতিক খেলায় নামছে। ’ কেপিসিএন তাদের দীর্ঘ সংবাদের কোথাও জং নামকে জং উনের ভাই হিসেবে উল্লেখ করেনি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রতিবেশীদের কাছে জং নাম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রচারে নেমেছে। সীমান্ত এলাকাজুড়ে তারা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাউডস্পিকারে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ প্রচার করছে। এ হত্যাকাণ্ডে জং উনের জড়িত থাকার ইঙ্গিত তারা প্রথমেই দিয়েছে। এখন তারা লাউডস্পিকারে এবং একই সঙ্গে টেলিভিশনেও হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত তুলে ধরছে। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চীনের ম্যাকাউগামী বিমানের জন্য অপেক্ষমাণ জং নামকে দুই নারী বিষ প্রয়োগে হত্যা করে—মালয়েশীয় পুলিশ ও সিসিটিভির ফুটেজ সে কথাই বলছে। ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা দুই নারী ও এক উত্তর কোরীয় নাগরিক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের জন্য মালয়েশিয়ায় উত্তর কোরীয় দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হাইওন কোয়াং সং এবং দেশটির বিমান সংস্থা এয়ার কোরিওর কর্মী কিম উক ইলকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে দূতাবাসে চিঠি দিয়েছে তদন্তকারীরা। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য