kalerkantho


মসুল বিমানবন্দরে ঢুকে পড়েছে ইরাকি বাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মসুল বিমানবন্দরে ঢুকে পড়েছে ইরাকি বাহিনী

ইরাকের মসুল থেকে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) হটাতে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। গতকাল তারা শহরের পশ্চিমে বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে। ছবি : এএফপি

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সর্বশেষ ঘাঁটি মসুলের বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছে সরকারি সেনারা। এখান থেকে পাশের গাজলানি সামরিক ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হবে তারা।

সেখান থেকে অভিযান চালাবে শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে। ২০১৪ সালে আইএস বিমানবন্দরটি দখল করার পর এই প্রথম সেখানে ইরাকি সেনাদের পা পড়ল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এলিট ফোর্স র‌্যাপিড রেসপন্সের স্করপিয়ন রেজিমেন্টের কমান্ডার হিশাম আবদুল খাদেম জানান, যুদ্ধবিমান, গানশিপ ও ড্রোনের সহায়তা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে প্রবেশ করে সেনারা। তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশের সদস্যরাও ছিল। তিনি জানান, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিমানবন্দরের দিকে চার দিন আগে তাঁদের অভিযান শুরু হয়।

হিশাম বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছি এবং প্রকৌশলী ইউনিটের সদস্যরা রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করছেন। ’ তিনি জানান, বিমানবন্দরের পাশের একটি চিনিকলে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। কারণ, সেখানে আইএস যোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছে বলে তথ্য আছে।

আঞ্চলিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত বাহিনী কাউন্টার টেররিজম সার্ভিসের (সিটিএস) সদস্যরা বিমানবন্দরের পাশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে আইএস ওই সামরকি ঘাঁটি দখলের সময় সেখানে বেশ কয়েকজন সিটিএস সদস্য দায়িত্বরত ছিলেন।

বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি পুনর্দখলের পর টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম তীরের দিকে অগ্রসর হবে সরকারি বাহিনী। শহরে ওই নদীর ওপর দিয়ে যত সেতু রয়েছে তা এরই মধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই অভিযানে ইরাকি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিমান হামলা চালাচ্ছে আইএসের বিরুদ্ধেও। এমনকি বৃহস্পতিবার স্থল অভিযানে মার্কিন সেনাদের নেতৃত্ব দিতেও দেখা গেছে। জোটের মুখপাত্র কর্নেল জন ডোরিয়ান বলেন, ‘মার্কিন সেনারা ঠিক যুদ্ধ করছে না। তবে সম্প্রতি তারা যুদ্ধক্ষেত্রের এতটা কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গেছে যে কয়েকবার আইএসের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। ’ কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। কিন্তু অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ওই বিমানবন্দরের দখল ঠেকাতে কতজন আইএস যোদ্ধা ছিল, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মসুলে হাজার দুয়েক আইএস যোদ্ধা আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলের চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অভিযান হবে অনেক কঠিন। কারণ সেখানকার রাস্তাগুলো এত সরু যে অধিকাংশ সামরিক যানই চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আইএসের জনপ্রিয়তা রয়েছে।

মানবিক সহায়তা দেওয়া সংস্থাগুলো সতর্কতা দিয়েছে, পশ্চিম মসুলে অভিযান শুরু হলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে এরই মধ্যে অবশ্য মসুলের চারপাশে ব্যাপক হারে আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযান শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ খাদ্যাভাবের মুখে পড়বে।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য