kalerkantho


জং-নাম হত্যাকাণ্ড

সন্দেহে উত্তর কোরীয় কূটনীতিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সত্ভাই কিম জং-নাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রয়োজনে সে দেশের এক কূটনীতিকসহ দুই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় মালয়েশীয় পুলিশ। গতকাল বুধবার মালয়েশীয় পুলিশের প্রধান খালিদ আবু বকর জানান, তদন্তে এ দুজন স্বেচ্ছায় সহায়তা না করলে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মালয়েশিয়ায় উত্তর কোরীয় দূতাবাসে কর্মরত সেকেন্ড সেক্রেটারি হাইওন কোয়াং সং এবং উত্তর কোরিয়ার যাত্রীবাহী বিমান সংস্থা এয়ার কোরীয়র কর্মী কিম উক ইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান মালয়েশিয়ার তদন্তকারীরা। পুলিশপ্রধান খালিদ বলেন, ‘তাদের উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আমরা (উত্তর কোরীয়) রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়েছি। আমরা আশা করছি, কোরীয় দূতাবাস আমাদের সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেবে। যদি সেটা না হয়, তবে আমরা তাদের আমাদের কাছে আসতে বাধ্য করব। ’

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আক্রমণের শিকার হন জং-নাম। চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ম্যাকাউগামী বিমানের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, অপেক্ষমাণ জং-নামের পেছন থেকে এগিয়ে আসা দুই নারীর একজন তাঁর মুখমণ্ডল আঁকড়ে ধরে একটি কাপড় চেপে ধরে। এর পরই তারা দ্রুত সটকে পড়ে এবং জং-নাম তত্ক্ষণাৎ বিমানবন্দরের অভ্যর্থনাকর্মীদের বিষয়টি জানান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

মালয়েশীয় পুলিশের দাবি, ওই দুই নারী জং-নামকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত ভিয়েতনামি ও ইন্দোনেশীয় ওই দুই নারীর দাবি, তাদের মিছামিছি ভিডিও করার নামে ফাঁসানো হয়েছে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তাদের এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে পুলিশপ্রধান খালিদ জানান, এ দুই নারী অবশ্যই জেনেশুনে এ কাজ করেছে। ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, ঘটনার পর দ্রুত এ দুজনকে বাথরুমের দিকে যেতে দেখা গেছে। খালিদের দাবি, তারা জানত, তাদের হাতে বিষাক্ত জিনিস রয়েছে এবং সেটা দ্রুত ধুয়ে ফেলতেই তারা বাথরুমে গেছে। জং-নামকে হত্যার আগে তারা কুয়ালালামপুরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলেও জানান খালিদ। তিনি আরো জানান, জং-নামের মৃতদেহ যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে, সেই হিমঘরে কেউ একজন ঢোকার চেষ্টা করেছে। এরপর সেখানকার প্রহরা আরো বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত কাং শোল দাবি করেছেন, অভিযুক্ত দুই নারী নির্দোষ। এ জন্য অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে এ দুই নারীর ব্যাপারে মন্তব্য করলেও দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তা ও কোরীয় বিমানকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে মালয়েশীয় পুলিশের আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলেননি। জং-নাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত বাগিবতণ্ডা চলছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য