kalerkantho


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন

সরকারে দুর্নীতি থাকলে আইএস নির্মূল অসম্ভব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সরকারে দুর্নীতি থাকলে আইএস নির্মূল অসম্ভব

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে দুর্নীতি বন্ধ না হলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীকে দমন করা অসম্ভব। এ কথা বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মতে, বিভিন্ন দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইএস নিজেদের দাঁড় করিয়ে কর্মী সংগ্রহ করে। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত দেশগুলোকে অবশ্যই নিজেদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। স্বচ্ছ হতে হবে সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও।

ইরাকের মসুল শহরে আইএসের বিরুদ্ধে বর্তমানে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঠিক এই সময় সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে আইএসের উত্থানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। ‘দ্য বিগ স্পিন’ নামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতির বিষয়টিকে খুব একটা পাত্তা দেয় না। কিন্তু আইএসকে দমাতে হলে অবশ্যই সরকারের দুর্নীতি ও সামরিক বাজেট নিয়ে তাদের মধ্যে স্বচ্ছ জবাবদিহি থাকতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএস মৌলবাদ ছড়াতে কিংবা কর্মী সংগ্রহের সময় বিভিন্ন দেশের দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। তারা এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।

তারা আশ্বাস দেয় নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও অধিকতর সমৃদ্ধির।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ শাখার প্রধান ক্যাথেরিন ডিক্সন বলেন, ‘দুর্নীতি যুদ্ধের একটা কারণ। এই দুর্নীতি আইএসকে তাদের মতাদর্শিক একটা ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আইএসের ধর্মীয় মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু নিজেদের দুর্নীতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তারা খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। ’

সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা এই সংস্থাটি জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রচারের সময় আইএস দুর্নীতির বিষয়টি বড় করে তুলে ধরে। যদিও নিজেদের অনেক দুর্নীতি থাকলেও তা তারা চেপে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি অনেক সময় সামরিক বাহিনীকেও দুর্বল করে দেয়। ইরাকের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, আইএস যখন মসুলে প্রথম হামলা চালায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পর্যাপ্ত ইরাকি সেনা ছিল না। কারণ সেনাদের অনেকেই ঘুষ খেয়েছিল।

ডিক্সনের ভাষায়, ‘এর মানে হলো সামরিক বাহিনীর মতো শীর্ষপর্যায়ে দুর্নীতি বন্ধ না হলে আইএস নির্মূল সম্ভব নয়। ’ তিনি আরো বলেন, জনগণের টাকা সামরিক খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সরকারকে স্বচ্ছ থাকতে হবে। ডিক্সন বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্নীতি বড় একটা হুমকি। কারণ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এই দুর্বলতার কারণেই নড়বড়ে হয়ে পড়ে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা। ’

সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য