kalerkantho


অপরাধ-অভিবাসী সম্পর্ক

ট্রাম্পের মন্তব্য আর সুইডেনের বাস্তবতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের মন্তব্য আর সুইডেনের বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সিটি হলের বাইরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। সোমবার তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ‘সুইডেনে অভিবাসীদের চালানো সন্ত্রাসী হামলা’বিষয়ক মন্তব্যের পর অনেকখানি ধাঁধায় পড়েছে সুইডিশরা। বিশ্বের সবচেয়ে কম অপরাধ সংঘটিত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন অন্যতম। পরিসংখ্যান দেখলে বলা যায়, অল্প কিছু অপরাধ যা সেখানে ঘটে, তার জন্য ঢালাওভাবে অভিবাসীদের দায়ী করা যায় না। ফলে সুইডেনে সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ টানার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অভিবাসীদের নাম উল্লেখ করা যায় না। সুইডেনে অভিবাসন, অপরাধ এবং সন্ত্রাসের মধ্যে বাস্তব সম্পর্ক কতটুকু, সেটা খতিয়ে দেখতে বার্তা সংস্থা এএফপি দেশটির বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করেছে। ট্রাম্প গত শনিবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে সুইডেনে চালানো এমন এক সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ টেনেছেন, যা বাস্তবে ঘটেইনি। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, জার্মানিতে কী ঘটছে, গত রাতে (শুক্রবার) সুইডেনে কী ঘটে গেল। সুইডেন, কেউ বিশ্বাস করতে পারবে? তারা বিপুলসংখ্যক (অভিবাসী) গ্রহণ করেছে। যা কখনো সম্ভব বলে চিন্তাও করেনি, তেমন সমস্যায়ই এখন তাদের পড়তে হচ্ছে। ’ তাঁর এ বক্তব্যের পরপরই বিস্ময় প্রকাশ করে সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে জানানো হয়, ফক্স নিউজ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ট্রাম্প ওই দাবি করেছেন।

পরে গত সোমবার এ নিয়ে এক টুইট করেন ট্রাম্প, ‘মানুষকে একটু শান্তি দিন। ...গণমাধ্যমের দাবি বিপুলসংখ্যক অভিবাসী নিয়ে দারুণভাবে চলছে সুইডেন। বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। ’

ট্রাম্পের এই দাবির যৌক্তিকতা কতটুকু? সুইডেনে কি তাহলে কখনোই সন্ত্রাসী হামলা হয়নি? এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৪-১৫ সালে সুইডেনে প্রায় আড়াই লাখ অভিবাসী প্রবেশ করে। এদের ৩৪ শতাংশ সিরিয়ার আর ১০ শতাংশ ইরাকি। এই সময়ের পর সুইডেনে আর কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। বেশ আগে ২০১০ সালে এক ইরানি স্টকহোমের বাজার এলাকায় আত্মঘাতী হামলা চালায়। এতে দুজন সামান্য আহত হয়। এ ছাড়া গত অক্টোবরে এক শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক সিরীয়কে আটক করা হয়।

সুইডেন বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবেই পরিচিত। সুইডেনের গোয়েন্দা সংস্থা সাপো জানায়, সুইডেনে সন্ত্রাসী হামলার ‘উচ্চ’ আশঙ্কা রয়েছে। সতর্কতার মাত্রায় এর মান দ্বিতীয়। ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই সেরে ১৫০ সুইডিশ নাগরিক সম্প্রতি দেশে ফিরেছে। সরকারি সংস্থা সুইডিশ ক্রাইম প্রিভেনশন কাউন্সিল (বিআরএ) জানায়, সুইডেনে অপরাধের মাত্রা ২০০৯ সালের চেয়ে ২০১৫-তে সামান্য বেড়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫-তে অপরাধ ও অপকর্ম বেড়েছে ৪.১ শতাংশ। এর মধ্যে সম্পদ নষ্ট (চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি) বেড়েছে ৭.২ শতাংশ। তবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা কমেছে শূন্য দশমিক ৪ ভাগ। যৌন অপরাধ বেড়েছে ১১ শতাংশ। মার্চের শেষ নাগাদ জানা যাবে ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান।

তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সুইডেনে অপরাধের হার প্রায় ৫ শতাংশ কম। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, সুইডেনে অপরাধ সংগঠন নয় বরং অপরাধের শিকার হয় অভিবাসনপ্রার্থীরা। গত বছর অভিবাসীদের ৯২টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এক নব্য নািসর হামলায় দুই অভিবাসী শিক্ষক নিহত হন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য