kalerkantho


রাজাপাকসের আমলে সম্পাদক হত্যা

পাঁচ সামরিক গোয়েন্দা গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শ্রীলঙ্কায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের শাসনামলে বিখ্যাত একজন সম্পাদককে হত্যা এবং আরো কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানোর দায়ে পাঁচজন সামরিক গোয়েন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার আইনসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ব্যাপক সমালোচনা করার কারণে ২০০৯ সালে সম্পাদক লাসান্থা বিক্রমাতুঙ্গে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত হয় এবং শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রমণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আসে।

রাজাপাকসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ভাই গোতাবায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ক্রয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন বিক্রমাতুঙ্গে। অভিযোগটির বিষয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে তাঁকে হত্যা করা হয়।

তদন্তের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ওই পাঁচজনকে ২০০৮ সালে সাংবাদিক কিথ নোয়ার অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের সমালোচনার কারণে সাংবাদিক কিথ নোয়ার অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, যারা নোয়ারকে অপহরণ করেছিল তারাই ‘সানডে লিডার’ পত্রিকার সম্পাদক লাসান্থা বিক্রমাতুঙ্গাকে হত্যা এবং আরো কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

এসব ঘটনার তদন্তকারীরা রবিবার একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, একজন শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযুক্ত পাঁচজন একটি সামরিক ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনা করতেন। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এসব ঘটনায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় আরো কিছু কর্মকর্তা আটক হতে পারেন।

বড় আকারে অর্থ তছরুপ এবং অনেক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রাজাপাকসে এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য তদন্তের অধীন রয়েছেন। তাঁর ১০ বছরের শাসনামলে ১৭ জন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা করা হয়।

মোটরসাইকেলে করে আসা একদল লোক সম্পাদক বিক্রমাতুঙ্গের গাড়ি থামিয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করেছিল। গত অক্টোবরে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তাকে নিজ বাড়িতে ফাঁসিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে থাকা একটি নোটে তিনিই বিক্রমাতুঙ্গকে হত্যার দাবি করেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য