kalerkantho


জং নাম হত্যাকাণ্ড

উনের হাত থাকতে পারে দুই কারণে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সত্ভাই কিম জং নাম হত্যার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। তবে অনেকেরই ধারণা, মালয়েশিয়ায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে কিম জং-উনের হাত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, উন কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম—সিএনএন বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলেছে, ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধ একটি কারণ হতে পারে। আবার প্রতিবেশী দেশ চীনের সঙ্গে নামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেও উনের নিশানা হতে পারেন তিনি। কারণ সম্প্রতি পেইচিং-পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।

২০০১ সালে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে জাপানে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়ায় বাবা কিম জং-ইলের সুনজর থেকে বঞ্চিত হন জং নাম। ফলে বড় ছেলে হিসেবে বাবার উত্তরাধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা মোটামুটি শেষ হয়ে যায়। আর এ কারণেই তিনি ওই সময় চীন নিয়ন্ত্রিত ম্যাকাউ অঞ্চলে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যান। জং নামের নিয়মিত চীনে যাতায়াত ছিল এবং পেইচিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল ঘনিষ্ঠ। আর এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাঁকে সহযোগিতা করেন চাচা জাং সং থায়েক।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট এশিয়া ননপ্রোলিফেরাশন প্রোগ্রামের’ পরিচালক জেফরি লেউইস বলেন, ‘থায়েককে পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রতিনিধি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তিনি ছিলেন জং নামের আয়ের উৎস। এবং সম্ভবত এ কারণেই পেইচিং থায়েককে সুনজরে দেখত। ’

কিন্তু নাটকীয়ভাবে ২০১৩ সালে উনের নির্দেশে থায়েককে হত্যা করা হয়। আর এর মধ্য দিয়ে মূলত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগসূত্র হারান জং-নাম। পেইচিংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়।

পেইচিংয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জাও তং মনে করেন, ‘সত্যিই জং নাম হত্যার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হাত থাকলে তা উনের ওপর পেইচিংয়ের আস্থা আরো তলানিতে নিয়ে যাবে। ’

এই বিশ্লেষক আরো জানান, জং নাম উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা কাঠামোতে সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। এবং তিনি প্রায়ই পেইচিংকে অনুসরণ করতে পিয়ংইয়ংকে আহ্বান জানাতেন।

পেইচিংকে বলা হয় পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে বড় মিত্র। তবে এই মিত্রতা কয়েক বছর হলো ভালো যাচ্ছে না। বিশেষ করে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচির কারণে উনের ওপর পেইচিং নাখোশ। অন্যদিকে আবার উত্তর কোরিয়ার শাসক পরিবারের কেউ চীনপন্থী হোক—এটা উন সহ্য করতে পারেন না। মূলত এ কারণে থায়েককে হত্যা করে থাকতে পারেন উন।

কেউ কেউ বলছেন, উত্তর কোরিয়ার শাসক পরিবারে ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধ নতুন নয়। ফলে এই বিরোধের কারণেও জং নামকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সত্তরের দশকে এক নৃত্যশিল্পীর জন্য সংসার ছাড়েন উন ও নামের বাবা। ওই সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতা নিয়ে এই দুই ভাইয়ের মধ্যে রেষারেষি হবে। তবে নানা কারণে মোটামুটি সহজেই ক্ষমতায় আসেন উন। অন্যদিকে জং নাম দেশ ছাড়লেও হয়তো মনে মনে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বীই ভাবতেন উন। সেই ভাবনা থেকেও তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ৪৫ বছর বয়সী জং নাম গত সোমবার মালয়েশিয়া থেকে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ম্যাকাউতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই দিন কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেউ একজন তাঁর মুখে বিষ প্রয়োগ করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য