kalerkantho


পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের দেওয়া পাসপোর্ট রাশিয়ায় বৈধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনে বিদ্রোহীদের দেওয়া পাসপোর্ট এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র সাময়িকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ ঘটনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকো রাশিয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। জবাবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, মানবিক কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ওই অঞ্চল থেকে ভারী সামরিক অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এবং সোমবার থেকে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে।

লাভরভ ন্যাটো সভায় যোগ দেওয়ার জন্য গতকাল জার্মানির মিউনিখে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ছিলেন সেখানে। রাশিয়ার ঘোষণা সম্পর্কে সেখানে মাইক পেন্স বলেন, ‘এসব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে দায়ী করবে। সেই সঙ্গে ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়াকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখছে। ’

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহী এবং ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে। এর ফলে হতাহতের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ শুরু হতেই পূর্ব ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার মানুষ রাশিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছে।

বিদ্রোহীদের দেওয়া পাসপোর্টকে স্বীকৃতি দেওয়া সম্পর্কে মস্কো থেকে জানানো হয়েছে, ‘বিদ্রোহীদের দেওয়া পরিচয়পত্র, স্কুল ও পেশাদার ডিপ্লোমা, জন্ম ও মৃত্যু সনদ রাশিয়াতে বৈধ বলে গণ্য করা হবে। ’ রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, এটা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা’ বৃদ্ধির চেষ্টা। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পাভলো ক্লিমকিন বলেন, ‘এই ঘোষণা মৌলিকভাবে মিনস্ক চুক্তির যৌক্তিকতার লঙ্ঘন। ’ বর্তমানে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ও সাবেক অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ওলেকসান্দর তার্চিনভও একই কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্রেমলিন অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। নতুন  চুক্তি স্বাক্ষর করে পুতিন বিদ্রোহী দলকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ’

২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। রুশপন্থী বিদ্রোহীরা এর পর পূর্বাঞ্চলেও সশস্ত্র লড়াই শুরু করে।   গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও উভয় পক্ষ তা বারবার ভঙ্গ করে চলেছে। ২৩ ডিসেম্বর সর্বশেষ অস্ত্রবিরতি শুরু হয়। সূত্র : রয়টার্স।

 


মন্তব্য