kalerkantho


মার্কিন কারাগারে মারা গেলেন আলোচিত ‘অন্ধ শেখ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নিই ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ১৯৯৩ সালের বোমা হামলা ষড়যন্ত্র মামলা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত কথিম মুসলিম ধর্মীয় নেতা ওমর আবদেল রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মারা গেছেন। মিসরে জন্ম নেওয়া আবদেল রহমান ‘অন্ধ শেখ’ নামে পরিচিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবদেল রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

নর্থ ক্যারোলাইনা কারাগারের মুখপাত্র গ্রেগ নর্টন জানিয়েছেন, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কারাগারের ফেডারেল মেডিক্যাল সেন্টারে আবদেল রহমান মারা গেছেন। ওমর ১০ বছর ধরে ডায়াবেটিস এবং করোনারি আর্টারি রোগে ভুগছিলেন। এর আগে ওমরের ছেলে আমমার জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেলিফোনে মিসরে তাঁদেরকে আবদেল রহমানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

মিসরে জন্ম নেওয়া আবদেল রহমান মুসলিম আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ধূসর শ্মশ্রুমণ্ডিত কট্টর এই মুসলিম নেতা কালো চশমা আর মাথায় সাদা পাগড়ি পরতেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ধর্ম নিয়ে কট্টর অবস্থানের কারণে তিনি ছিলেন বেশ আলোচিত। মনে করা হয়, তাঁর অনুসারীরাই বিশ্বব্যাপী হত্যা, বোমা হামলার মতো ঘটনায় জড়িত।

আবদেল রহমানের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৩ মে।

খুব কম বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে চোখের দৃষ্টি হারান তিনি। ব্রেইল সংস্করণের কোরআন শিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা।

‘অন্ধ শেখ’ তরুণ বয়সে মুসলিম মৌলবাদ গ্রুপগুলোর সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে মিসরের তত্লকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে বেশ কয়েক বছর সাজা ভোগ করেন তিনি।

সন্ত্রাসী তালিকায় আবদেল রহমানের নাম থাকার পরও ১৯৯০ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ভিসা দেয়। যদিও ভিসা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে দাবি করে, কম্পিউটারে তথ্য ভুলের সুবিধা পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। ওই সময় নিউ ইয়র্ক টাইমস এক খবরে জানিয়েছিল, সিআইএর সায় পেয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদদের সমর্থন জুগিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে হামলায় ওমর সরাসরি দোষী সাব্যস্ত না হলেও ওই হামলার ষড়যন্ত্রে পরোক্ষভাবে ইন্ধন দেওয়ার প্রামণ পাওয়া গিয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারককে হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও বিচারে আমলে নেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য শোনা না হলেও রায়ের দিন দোভাষীর মাধ্যমে প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন ওমর আবদেল রহমান। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মুসলিম মৌলবাদীদের কাছে ওমর আবদেল রহমানের বেশ গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সূত্র : সিএনএন।


মন্তব্য