kalerkantho


মসুল পুনর্দখলই সবচেয়ে কঠিন হবে

এএফপির বিশ্লেষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সর্বশেষ ঘাঁটি এখন মসুল। তবে উত্তরাঞ্চলীয় এই শহরটিতে এখন অনেকটাই কোণঠাসা তারা।

এরই মধ্যে শহরটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল প্রায় পুনর্দখলে নিয়েছে ইরাকি বাহিনী। এখন তারা অগ্রসর হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলের দিকে। তবে ওই অঞ্চল থেকে আইএসকে নির্মূল করতে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হবে তাদের। মসুলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। বিশ্লেষণটি তুলে ধরা হলো—

ইরাকি বাহিনীর অবস্থান : মসুলের দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি গ্রাম গতকাল রবিবার পুনর্দখল করেছে ইরাকের কেন্দ্রীয় পুলিশের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। এর মধ্যে একটি গ্রাম আছে, যেখান থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিমানবন্দরের দূরত্ব খুবই কম। সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এলিট ফোর্স এবং সামরিক বাহিনীর কয়েকটি ইউনিটও রয়েছে। ইরাকের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত বাহিনী কাউন্টার টেররিজম সার্ভিস (সিটিএস) এখনো লড়াইয়ে যুক্ত হয়নি। তবে যেকোনো সময় তারা যুক্ত হতে পারে।

মসুলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে এগোচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী ‘হাশেদ আল-শাবি’। তারা আইএস নিয়ন্ত্রিত তাল-আফার শহরের একেবার কাছাকাছি চলে গেছে। এমনকি এই বাহিনী মসুল ও সিরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী রাস্তাও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

পূর্ব মসুলে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দল অগ্রসর হচ্ছে। এই দলটি গত মাসেই পূর্বাঞ্চল পুরোপুরি আইএসমুক্ত করেছে।

পশ্চিম মসুলে কী ঘটতে পারে : চলমান অভিযানে ইরাকি বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য হলো দক্ষিণাঞ্চলের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি দখল করা। এরপর তারা এগোবে পশ্চিম মসুলের দিকে। তারা সম্ভাব্য সব পয়েন্ট দিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় অভিযান চালাবে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলের চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অভিযান হবে অনেক কঠিন। কারণ, সেখানকার রাস্তাগুলো এত সরু যে অধিকাংশ সামরিক যানই চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া সেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আইএসের জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বেসামরিক লোকজনের সম্ভাব্য পরিণতি : পূর্ব মসুলে অভিযানের সময় বেসামরিক বেশ কয়েকজন নিহত হয়। অনেককে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আইএস। তবে যত প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা ঘটেনি। অভিযানের সময় প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিল।

মসুলে অভিযান শুরুর পর প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়েছে। এর এক-চতুর্থাংশ অবশ্য এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


মন্তব্য