kalerkantho


ফ্লোরিডায় নির্বাচনী প্রচার স্টাইলে জনসভা

আবারও মিডিয়াকে ধুয়ে দিলেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আবারও মিডিয়াকে ধুয়ে দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডার মেলবোর্নে অরল্যান্ডো মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এক সমাবেশে ভাষণ দেন। ছবি : এএফপি

মসৃণভাবে চলছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই।

চাকরি বাড়ছে—ফ্লোরিডার জনসভায় ভাষণ দিতে উঠে জোরালো গলায় এই তথ্যগুলো জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু আত্মবিশ্বাস নয়, আগ্রাসী কণ্ঠে গত শনিবারের ট্রাম্পের ভাষণের পুরো আবহটিই তৈরি করা হয় নির্বাচনী প্রচারের ধাঁচে। বক্তব্যগুলোও প্রায় এক। একটিমাত্র বিষয় বাদ গেছে আর তা হলো তাঁর ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনা।

তবে ৪৫ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন গণমাধ্যমের নিন্দায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর কথাবার্তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটিই ট্রাম্পের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। ‘অসৎ গণমাধ্যম দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থারই অংশ’—যার সঙ্গে অন্য যেকোনো লড়াইয়ের মতোই যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে তাঁকে। একই সঙ্গে সত্য লেখার জন্যও তিনি সাংবাদিকদের নসিহত করেন।

ট্রাম্পের গত এক মাসের হোয়াইট হাউসের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়।

পুরো সময়টি রীতিমতো ঝড়ের মধ্যেই কেটেছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া বিতর্কের ঝড়ে পদত্যাগে বাধ্য হন তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। স্বাস্থ্যসেবা আইন যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামানুসারে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত তা আংশিক স্থগিত করেছেন, তবে কোনো বিকল্প দিতে পারেননি। অভিবাসন ও শরণার্থী-সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশের কারণে আদালত তাঁকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন। এক মাসে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করতে পারেননি। এর মধ্যে উপদেষ্টাদের ধারাবাহিক পদত্যাগ এবং প্রস্তাবিত পদ প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি তো রয়েছেই।

বোয়িংয়ের নতুন ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার বিমানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত শনিবার ফ্লোরিডার মেলবর্ন শহরে উপস্থিত হন ট্রাম্প। ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে মঞ্চে উঠে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কারণ আমি আমার বন্ধুদের কাছে আসতে চেয়েছি, আমার কাছের মানুষদের কাছে আসতে চেয়েছি। ’ নির্বাচনী প্রচারের টোনেই তিনি জানান, ডুবতে থাকা প্রশাসনের পুনর্বিন্যাস করবেন তিনি। সামরিক বাহিনীর পুনর্গঠন, অভিবাসন আইন আরো কঠোর এবং ওবামাকেয়ার বাতিল করবেন। তাঁর দাবি, এসব পরিবর্তন আনার পর স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।

হোয়াইট হাউসে বিশৃঙ্খলা চলছে বলে যে খবর বের হয়েছে তা অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘হোয়াইট হাউস মসৃণভাবে চলছে। অসৎ মিডিয়া একের পর এক মিথ্যা খবর ছেপে চলেছে। কোনো সূত্রের উল্লেখ না করেই খবর ছাপে তারা। ওরা সত্য কথা বলতেই চায় না। সমস্যার একটা অংশ তারাও। এরা অসৎ ব্যবস্থার অংশ। ’ এর আগেও এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘মিডিয়া শুধু তাঁরই নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু। ’

ট্রাম্প আরো বলেন, মার্কিন সংস্থাগুলোকে আমেরিকায় উৎপাদন করতে বলার ফল মিলেছে। নভেম্বর থেকেই বেড়েছে কর্মসংস্থান। ফোর্ড, জেনারেল মোটরস, ফিয়াট-ক্রাইসলারের মতো সংস্থা দেশেই উৎপাদন বাড়াচ্ছে। অ্যারিজোনায় ইনটেল নতুন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করবে। তাতে ১০ হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাম্পের এই জনসভায় হাজির ছিলেন তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া। ট্রাম্পের আগে মঞ্চে ওঠেন তিনি। বাইবেল থেকে দুই ছত্র পাঠ করে তাঁর স্বামীর সমালোচকদের নিন্দা করেন। একই সঙ্গে একজন অনুকরণীয় ফার্স্ট লেডি হয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য