kalerkantho


ট্রাম্পের তৈরির আগেই মেক্সিকো সীমান্তে ‘দেয়াল’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মেক্সিকো সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের আগেই শুক্রবার সেখানে এক দেয়াল দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ দেয়াল ইট বা কাঁটাতাদের তৈরি নয়, হাজার হাজার মেক্সিকান হাতে হাত ধরে তৈরি করে এ মানবদেয়াল।

প্রতিবাদ জানায় ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনার।

মেক্সিকোর শহর সিউদাদ হুয়ারেজের ওই সীমান্তে প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা হয়েছিল এই মানবপ্রাচীর। এতে অংশ নেয় রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে হাজারো সাধারণ শিক্ষার্থী। সবার হাতে ছিল ফুল। ট্রাম্পের আদেশের বিরোধিতা করে এ সময় অনেককে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এই শহরটির ওপাশেই মার্কিন শহর এল পাসো। এই শহরের মেয়র অস্কার লিসারও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীদের শ্যেনদৃষ্টির সামনে ওই প্রতিবাদে অংশ নেন।

প্রতিবাদে অংশ নিতে আসা কারোলাইনা সলিস নামের এক শিক্ষার্থী বলে, সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ একটি জঘন্য সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসী ও মাদক আটকানো সম্ভব নয়।

তার মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘৃণা ও জাতিবিদ্বেষ প্রকাশ পায়। এল পাসোর মেয়র লিসার বলেন, ‘সিউদাদ হুয়ারেজ এবং সীমান্তের ওপারের এল পাসো একই নগরী। আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না। প্রতিদিন এই দুটি শহরের হাজারো মানুষ সীমানা পার হয়ে একে-অন্যের এলাকায় আসা-যাওয়া করে কাজের খোঁজে। ’

প্রসঙ্গত, লিসারের জন্ম সীমান্তের মেক্সিকো অংশে।

সিউদাদ হুয়ারেজ শহরের মেয়র আরমান্দো কাবাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মেক্সিকানদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতেই ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ। তিনি জানান, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে তাদের মেক্সিকো সাদরে গ্রহণ করবে এবং সহযোগিতা করবে। মেক্সিকোর তিহুয়ানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো সীমান্তে একইভাবে একটি মানবদেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা তাঁদের রয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে সারা দেশ থেকে ৬৮০ জন অনথিভুক্ত অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বড় ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ধরার জন্য ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক আইনি সংস্থাগুলো জানায়, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন অনেককে আটক করা হয় ওই অভিযানে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য