kalerkantho


পাকিস্তানে গত ১০ বছরের বড় হামলাগুলো

রক্ত ঝরেছে হাজারো সাধারণ মানুষের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বেড়ে গেছে। এসব সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছে অনেক সাধারণ মানুষ।

দেশটিতে গত ১০ বছরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা তুলে ধরা হলো।

২০০৭ : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর দেশে ফিরলে তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ১৩৯ জন নিহত হয়। আট বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরেছিলেন তিনি। একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনকালীন সভা শেষে ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে।

২০০৮ : পাকিস্তানের একটি সামরিক কারখানার বাইরে আগস্টে চালানো দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত হয় ৬০ জন।

২০০৯ : এ বছরের অক্টোবরে উত্তর-পশ্চিম পেশোয়ারের একটি বাজারে গাড়িবোমা হামলা করে সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়। একই বছরের ৭-৯ ডিসেম্বরে লাহোরে পৃথক চারটি হামলায় প্রাণ হারায় ৬৬ জন।

২০১০ : বছরের প্রথম দিনই বোমা হামলায় কেঁপে ওঠে পাকিস্তান। দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলীয় শহর বানুতে ভলিবল ম্যাচ চলাকালীন গাড়িবোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে নিহত হয় ১০১ জন। পরে মে মাসে লাহোরের আহমাদিয়া মতানুসারীদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে ৮২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এর ঠিক দুই মাস পর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলীয় শহর মোহমাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা যান আরো ১০৫ জন। সেপ্টেম্বর মাসে কোয়েটাতে শিয়াদের একটি মিছিলে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ৫৯ জনকে। ওই বছরের সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি ঘটে নভেম্বরে। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের ওপর চালানো আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় ৬৮ জন।

২০১১ : এ বছরের এপ্রিলে দেরা গাজী খান এলাকায় চালানো দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় ৫০ জন। পরের মাসে চারসাদা এলাকার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো দুটি আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় ৯৮ জন।

২০১৩ : এক বছর বিরতি দিয়ে আবারও নতুন বছরের শুরুতে পর পর দুটি হামলায় কেঁপে ওঠে পাকিস্তান। কোয়েটার একটি স্নুকার ক্লাবে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় ৯২ জন। এর এক মাস পরই কোয়েটার কাছে হাজারা শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় একটি বোমা হামলায় প্রাণ হারান ৮৯ জন। এরপর মার্চ এবং সেপ্টেম্বর মাসে চালানো হামলায় ৪৫ এবং ৮২ জন নিহত হয়।

২০১৪ : এ বছরের নভেম্বরে ভারত-পাকিস্তান প্রধান সীমান্ত পারাপার এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৫৫ জন নিহত হয়। ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সামরিক বাহিনীর পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবানের হামলায় নিহত হয় ১৫০ জন।

২০১৫ : জানুয়ারি মাসে শিয়াদের একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ৬১ জনকে। এরপর করাচিতে শিয়াদের লক্ষ্য করে অন্য একটি হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। এ হামলায় নিহত হয় ৪৫ জন।

২০১৬ : মার্চে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের লক্ষ করে লাহোরের একটি পার্কে চালানো হামলায় নিহত হয় ৭০ জন। এর পাঁচ মাস পর কোয়েটার একটি হাসপাতালে চালানো হামলায় নিহত হয় ৭৩ জন। অক্টোবরে বেলুচিস্তানের একটি পুলিশ একাডেমিতে গুলি এবং বোমা হামলা করে হত্যা করা হয় ৬১ জনকে। এর পরের মাসেই বেলুচিস্তানের একটি দরগায় হামলা করে আরো ৫২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।

২০১৭ : ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের একটি দরগায় আত্মঘাতী বোমা হামলা করে ৭০ জনকে হত্যা করে আইএস জঙ্গিরা। এ ঘটনায় আহত হয় ২০০ জন। এ ছাড়া বছরের শুরুতে তালেবানের চালানো আরো কয়েকটি হামলায় প্রাণ হারায় আরো অনেক সাধারণ মানুষ।

সূত্র : এএফপি।   


মন্তব্য