kalerkantho


পাকিস্তানে মাজারে হামলা

তাৎক্ষণিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত শতাধিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তাৎক্ষণিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত শতাধিক

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে লাল শাহবাজ কালান্দারের মাজারে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার জেরে অবরুদ্ধ ফটকের সামনে গতকাল ভক্তদের মাতম। ছবি : এএফপি

সিন্ধু প্রদেশের একটি মাজারে আত্মঘাতী হামলার পরপরই দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গত বৃহস্পতিবার রাত ও গতকাল শুক্রবারের এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসপিআর এ কথা জানিয়েছে। আটক করা হয়েছে অনেককে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিন্ধু প্রদেশের শেহওয়ান এলাকার লাল শাহবাজ মাজারে আত্মঘাতী হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ওই হামলায় নারী, শিশুসহ অন্তত ৭২ জন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক। যদিও নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ বলেও অনেক গণমাধ্যমে এসেছে।

সুফি মতাদর্শের ওই মাজারে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আফগান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, জঙ্গিরা আফগানিস্তানে বসে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ৭৬ জঙ্গির একটি তালিকাও আফগানিস্তানকে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত।

মাজারে হামলার পর বৃহস্পতিবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। কর্মকর্তারা জানান, সিন্ধু প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অভিযানে ১৮ জঙ্গি নিহত হয়েছে। ১৩ জন নিহত হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।

সেনাপ্রধান কোমার জাভেদ বাজওয়া বলেন, ‘এই জাতির প্রতি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই প্রতিশোধ হবে তাত্ক্ষণিক; কারো জন্য অপেক্ষা করা হবে না। ’

বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহতদের দাফন গতকাল শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সিন্ধুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে প্রাদেশিক সরকার।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুর দাবি করেন, আফগানিস্তানে বসে জঙ্গিরা লাল শাহবাজ মাজারে হামলার ছক কষে। জঙ্গিদের যেন আশ্রয় দেওয়া না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে আফগান সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জঙ্গিবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এর পর থেকে গত দুই বছর দেশটিতে জঙ্গি হামলা তুলনামূলক কমে আসে। কিন্তু সম্প্রতি আবার তালেবান ও আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত রবিবার থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি জঙ্গি হামলায় সেখানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের হামলার পরই তাত্ক্ষণিকভাবে এর দায় স্বীকার করে নেয় আইএস। পাকিস্তানে এটা ছিল আইএসের দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা। এর আগে গত বছর বেলুচিস্তানের একটি মাজারে তাদের আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য