kalerkantho


‘অভিবাসীহীন একটি দিন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘অভিবাসীহীন একটি দিন’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে একদিনের জন্য অভিবাসীদের প্রতি কর্মবিরতি ও স্কুল বর্জনের ডাক দিয়েছে অভিবাসনপন্থী শিবির। এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা রেস্টুরেন্ট তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বোস্টন, হুস্টন, শিকাগো, নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে অভিবাসীদের গতকাল বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘অভিবাসীহীন একটি দিন’ শিরোনামের এ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বলা হয়, ‘যারা সরাসরি, শ্বেতাঙ্গ, জন্মসূত্রে নাগরিক নয়, তাদের ওপর এত বড় নিপীড়ন ও অমানবিকীকরণের ব্যবস্থা প্রতিরোধ করতে সপ্তাহের একটা কর্মদিবসে অবশ্যই আমাদের একত্র হওয়া দরকার এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিশ্ছিদ্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। ’

ফিলাডেলফিয়ার আয়োজকরা আশা করছেন, কয়েক শ অভিবাসী পরিবার ও কর্মজীবী তাদের কর্মসূচিতে সাড়া দেবে। আয়োজকদের একজন বেসরকারি সংস্থা জুন্টোসের নির্বাহী পরিচালক এরিকা অ্যালমিরন বলেন, ‘যদি ব্যাপক হারে লোকজন এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়, তবে কী ঘটবে? কেমন দেখাবে এ শহরটাকে?’

রাজধানীতে যাঁরা নিজেদের রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন অভিবাসীও। স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর খ্যাতিমান শেফ বনে যাওয়া এবং পুরস্কার জিতে নেওয়া হোসে আন্দ্রেস টুইটারে জানিয়েছেন, অভিবাসীকর্মীদের প্রতি সমর্থন হিসেবে তাঁর রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে পাঁচটি তিনি বন্ধ রাখবেন। তবে কেউ যদি এ কর্মসূচিতে সাড়া দিতে না চায়, তাদের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৪ সালের হিসাবে হোটেল-রেস্টুরেন্টকর্মীদের ৯ শতাংশই এসব অবৈধ অভিবাসী। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় কট্টর অভিবাসীবিরোধী অবস্থান জানান দেন এবং নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণে পরপরই সেই অবস্থানের সপক্ষে পদক্ষেপ নেন।

এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছেই। এরই মধ্যে সম্প্রতি প্রত্যাবাসনের জন্য ৬৮০ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে ‘অভিবাসীবিহীন একটি দিন’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে সরকারপক্ষের দাবি, কেবল অপরাধী অভিবাসীদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জানা গেছে, গ্রেপ্তার অভিবাসীদের তিন-চতুর্থাংশের কোনো না কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।


মন্তব্য